ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণ বাতিলে আজ সংসদে আলোচনা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৪ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০১:৩২ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণ বাতিলে আজ সংসদে আলোচনা

বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মামলার রায়ে সংসদ, এমপি ও বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করাসহ আপত্তিকর বিষয়গুলো বাতিলের জন্য আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব আনা হবে। সেইসঙ্গে সাধারণ আলোচনা শেষে বিষয়টি ভোটে দেয়ার পর সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তা পাসও হবে। এতে ওই পর্যবেক্ষণের আপত্তিকর বিষয় বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টের ওপর চাপ বাড়বে।

বুধবার বিকেল ৫টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। এরপর থাকবে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। সংসদের নিয়মিত কাজ শেষ করার পর শুরু হবে সাধারণ আলোচনা।

জানা যায়, জাসদের একাংশের সভাপতি চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি মইন উদ্দীন খান বাদল সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব আনবেন।

‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন মামলার রায়ে ষোড়শ সংশোধনী Ulra Vires ঘোষণা করার জন্য ও প্রধান বিচারপতি কর্তৃক জাতীয় সংসদ সম্পর্কে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যে অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অসপ্রাসংগিক পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তা বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।’ তিনি এই প্রস্তাব আনার পাশাপাশি বক্তব্যও রাখবেন।

প্রসঙ্গত, সংসদে আলোচনার জন্য আদালত অবমাননার মামলা করার কোনো বিধান নেই। তাই এমপিরা স্বাধীনভাবে সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে পারেন।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় গত ১ আগাস্ট প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বাংলাদেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। পর্যবেক্ষণে ‘বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে রায়ে ক্ষুব্ধ সরকারি দলের নেতারা কড়া সমালোচনা করছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়া হয়। যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

এইচএস/এসএইচএস/আইআই/আরআইপি