বন্ধ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল শিক্ষকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস


প্রকাশিত: ১০:০৮ এএম, ১৬ জুন ২০১৫

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কর্মরত অধ্যাপকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশেষ প্রণোদনা (আর্থিক) ভাতা প্রদান করে অধ্যাপকদের সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ‘প্রাতিষ্ঠানিক প্রাইভেট প্র্যাকটিস’ চালুর জোর চিন্তাভাবনা চলছে।

নতুন এ পদ্ধতি চালু হলে চুক্তি অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত চার শতাধিক শিক্ষক চিকিৎসকের কেউ আর বাইরের হাসপাতাল, ক্লিনিক কিংবা চেম্বারে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। প্রচলিত সরকারি কর্মঘণ্টা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টার বদলে অতিরিক্ত ৩/৪ ঘণ্টা বেশি সময় হাসপাতালে রোগী দেখতে হবে এবং রোগীর অস্ত্রোপচার করতে হবে।

চিকিৎসক শিক্ষকের পদমর্যাদাভেদে অধ্যাপক তিন লাখ টাকা, সহযোগী অধ্যাপক দুই লাখ টাকা ও সহকারি অধ্যাপকদের এক লাখ টাকা বিশেষ প্রণোদনা ভাতা প্রদান করা হতে পারে। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের ধারণা থেকে বিএসএমএমইউতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালুর এ ধারণা নেয়া হয়েছে।   

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালুর ব্যাপারে সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে সম্মানজনক বিশেষ প্রণোদনা ভাতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতকরা ৮০ ভাগ শিক্ষকই প্রাইভেট প্র্যাকটিস বাদ দিতে রাজি আছেন!

বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালুর বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়ে চিন্তাভাবনা চললেও চূড়ান্তভাবে এখনো কথা বলার সময় হয়নি।

তিনি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালু করতে হলে বছরে ৫০ কোটি টাকার ফান্ড প্রয়োজন হবে। এ টাকার যোগান কোথা থেকে কীভাবে আসবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলপক্ষের (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে আলাপ আলোচনা ফলপ্রসূ হলেই তবে অদূর ভবিষ্যতে হাসপাতালেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালু বলে ডা. কামরুল হাসান খান মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে এক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জুলফিকার রহমান খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ ও ইনস্টিটিউশনাল প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালুর বিষয় সম্পর্কে মুখ খুলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের বিশেষ প্রণোদনা ভাতা প্রদানে বার্ষিক ৫০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এ পরিমাণ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আয় করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএসএমএমইউতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ হচ্ছে এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও উঠে এসেছে। এ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। সরকার সমর্থক চিকিৎসকরা এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসীরা বলছেন, এর ফলে চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে, সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক জানান, চিকিৎসকরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে খাটাখাটুনি করে প্রাইভেট চেম্বারে দৌঁড়ান। নাওয়া খাওয়া ভুলে অনেক রাত পর্যন্ত রোগী দেখেন। ব্যস্ততার কারণে সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণ করা হয়ে ওঠে না। ফলে তারা হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালুর পক্ষে মতামত দেন।

একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, নতুন পদ্ধতি চালু হলে হাসপাতালে বর্তমান আয়ের দ্বিগুণ আয় হবে।

এমইউ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।