শিশুদের আনন্দঘন মুহূর্তে আবেগাপ্লুত জাইমা রহমান
পড়ন্ত বিকেলের নরম আলো তখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীর আকাশে। ঠিক সেই সময় ঢাকার ‘SOS চিলড্রেন্স ভিলেজে’ পৌঁছাতেই একঝাঁক শিশুর উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনায় ভরে ওঠে চারপাশ। ছোট ছোট হাতে ফুল, মুখে লাজুক অথচ নির্মল হাসি কোথাও কৌতূহল, কোথাও দুষ্টুমিভরা চঞ্চলতা। তাদের গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের প্রতিটি মুহূর্ত যেন ছুঁয়ে যায় হৃদয়ের গভীরতম অনুভবকে।
সোমবার (১৮ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে এমন অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরেছেন জাইমা রহমান। সেখানে তিনি লিখেছেন, শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ আর ভালোবাসার স্পর্শ তাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।
বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ‘SOS চিলড্রেন্স ভিলেজে’র অংশ হিসেবে ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য পারিবারিক পরিবেশে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা।

জাইমা রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ৫৫ বছরের যাত্রায় সংগঠনটি এক লাখ ২৩ হাজারের বেশি মানুষের জীবনে আলোর স্পর্শ পৌঁছে দিয়েছে। ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যেও শিশুদের জন্য এমন শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ দেখে তিনি মুগ্ধ হন।
সেখানে গিয়ে শিশুদের পাশাপাশি তাদের পালক মায়েদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। জানতে পারেন সংগ্রাম পেরিয়ে উঠে আসা কিছু জীবনের গল্প। যেসব শিশু একসময় পরিবার হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছিল, তারাই এখন এখানে পেয়েছে নতুন আশ্রয়, ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ গড়ার সাহস।

ফেসবুক পোস্টে জাইমা রহমান আরও লেখেন, মানুষের সম্পর্ক শুধু রক্তের বন্ধনে সীমাবদ্ধ নয়; ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়েও গড়ে ওঠে গভীর আত্মীয়তা। আর সেই মানবিক বন্ধনই মানুষকে দেয় এক ধরনের আত্মিক তৃপ্তি।
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের মাটিতে SOS Children’s Villages Bangladesh–এর দীর্ঘ ৫৫ বছরের পথচলা সত্যিই অনুকরণীয়। দিনের শেষ বিকেলটুকু তাই তার কাছে থেকে গেছে ছোট ছোট শিশুদের দেওয়া ফুলের মতোই কোমল এক স্মৃতি হয়ে।
কেএইচ/এমআইএইচএস