আমার সন্তান যেন মাথা উঁচু করে বাঁচে


প্রকাশিত: ০৮:০৬ এএম, ২১ জুন ২০১৫

‘বাবা’ একটি ডাক, একটি আশ্রয়ের নাম। দুই অক্ষরের এই একটি শব্দের মাঝেই লুকিয়ে আছে সন্তানের জন্য স্নেহ-ভালোবাসা, নিরাপত্তা, আরো অনেক কিছু। ‘বাবা’ শব্দটি ছোট হলেও এর ব্যাপকতা অনেক।

প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। বাবার জন্য সন্তানের ভালোবাসা প্রতিদিন-প্রতি মুহূর্তের। তবে আজকের এ দিনটি শুধুই বাবাদের জন্য উৎসর্গ করা।

এ দিনে সন্তানেরা বাবাদের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটান নানাভাবে। ‘ভালবাসি’- না বলা এই কথাটি বলে, অনুভূতিটুকু ভাগাভাগি করে নিয়ে, আর সম্ভব হলে পুরোটা দিন বাবাকে সময় দিয়ে।

তবে ৬১ বছর বয়সী রিক্শাচালক অহিদ মিয়া জানেন না ‘বাবা দিবস’ কী। তার কাছে বাবা দিবসও অন্যসব দিনগুলোর মতোই। তার হৃদয়ের মাঝখানেও সন্তানদের জন্য এক টুকরো ভালোবাসার জায়গা রয়েছে। সেই জায়গাজুড়ে ভালোবাসার কিছু স্মৃতিও খেলা করে অবিরাম।

আলাপচারিতায় জানা গেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর গ্রামে স্ত্রীকে নিয়ে একাই থাকেন তিনি। পরিবারে তার দুই ছেলে আর দুই মেয়ে রয়েছে। তবে দুই ছেলেই বিয়ে করে আলাদা সংসার পাতায় ইচ্ছে করলেও এখন আর তাদের সঙ্গে থাকা হয় না অহিদ মিয়ার। কিন্তু সন্তানদের জন্য তার মন খুব কাঁদে। তাইতো সন্তানদের কথা জিজ্ঞেস করতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভাগ্যটাই খারাপ। গরিবের ঘরে জন্ম নিয়েছিলাম, টাকার অভাবে নিজেও পড়ালেখা করতে পারিনি, সন্তানদেরকেও করাতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে তারাও আমার মতো রিক্শা চালায়। নিজের সন্তানদের এমন দুরবস্থার কথা মনে করে প্রায় রাতেই নীরবে কাঁদেন অহিদ মিয়া। তার সেই কান্না কেউ দেখেন না। তাই চোখের জল চোখেই শুকিয়ে যায়।



তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। আর মনে মনে ভাবি আজ যদি ৫শ’ টাকা রোজগার করতে পারি তাহলে ৩শ’ টাকা দুই ছেলেকে ভাগ করে দেবো। কিন্তু অভাবের কারণে সেটা আর হয়ে ওঠে না। যেদিন রিকশা চালাই সেদিন স্ত্রীকে নিয়ে দু’মুঠো খেতে পারি। যেদিন অসুস্থ থাকি সেদিন রিকশা চালাতে পারি না। সেদিন আর কপালে দু’মুঠো ভাত জোটে না।

ছেলেরা বাবাকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা না করলেও তাদেরকে কোনো দোষ দিতে চান না অহিদ মিয়া। তিনি বলেন, আমি আমার ছেলেদের কোনো দোষ দেবো না, কারণ আমি বাবা হয়ে তাদের জন্য তেমন কিছুই করতে পারিনি। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে সন্তানদের প্রতি অনেক দায়িত্ব পালনে আমি ব্যর্থ হয়েছি। জীবনের শেষ সময়ে এসেও আমি তাদের জন্য এক খণ্ড জায়গা-জমি রেখে যেতে পারছি না। আমি যদি মরে যাই তাহলে আমার সন্তানদের কথা কে চিন্তা করবে?

অহিদ মিয়ার এখন একটাই ইচ্ছে, তার সন্তানরা যেন সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন। সবসময় সুখে-শান্তিতে থাকতে পারেন। তারা সুখে থাকলেই তিনি মরেও যেন শান্তি পাবেন।

কেউ বলেছিলেন, পৃথিবীতে ব্যর্থ মানুষ থাকতে পার, কিন্তু একজনও ব্যর্থ বাবা নেই। বাবারা কোনোদিন ব্যর্থ হন না। বাবা-সন্তানের সম্পর্ক তাই চিরন্তন, অমলিন।

আজকের এই দিনে অহিদ মিয়ার মতো সব বাবাদের প্রতি জাগো নিউজের বিনম্র শ্রদ্ধা।

আজিজুল আলম সঞ্চয়/বিএ/পিআর/এসআরজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।