রূপগঞ্জ-ডেমরা সড়কে ট্রাফিক পুলিশের প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি


প্রকাশিত: ০৫:২২ এএম, ২৩ জুন ২০১৫

ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে রূপগঞ্জ-ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর দুই ধারে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় ঢাকা থেকে আসা ৬৪টি রুটের যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ব্রিজের গোড়া এবংস্টাফ কোয়ার্টার নামক এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায় করায় এ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে সরকারদলীয়দের রাস্তার পাশে অবৈধ দখলের জন্য রাস্তা সঙ্কুচিত, ফুটপাত দখল, রাস্তার উপর বাজার স্থাপন ও যানবাহন স্টেশন এবং অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাসহ নানা কারণে ডেমরায় যানজটের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। ছুটির দিন এমনকি গভীর রাতেও এই দুর্বিসহ জীবন থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ ও ডেমরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাগো নিউজকে জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তাদের কোনো হাত নেই। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিষয়টি বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ওয়াদুদের সঙ্গে কথা হলে তিনি যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়কে চাঁদাবাজির ঘটনা অস্বীকার করেন।



দেখা গেছে, ডেমরা সুলতানা কামাল ব্রিজের রূপগঞ্জ অংশ থেকে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী পৌঁছতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। সেখানে এখন ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজির কারণে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। এতে এই রাস্তার যাত্রীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ডেমরার চৌরাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন না করায় ৩ দিক থেকে বেপরোয়া গাড়ি চলাচল করার কারণে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রূপগঞ্জের তারাবো, ডেমরা চৌরাস্তা ও স্টাফ কোয়ার্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দিনরাত চলে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। যানজটের কারণে করিম জুট মিল দেইল্লা-বাশেরপুল, কোনাপাড়া থেকে ডেমরা ব্রিজ পর্যন্ত অনেক সময়  জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে যেতে হয় যাত্রীদের।

এ ব্যাপারে গাড়ি চালক ইসমাইল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মঙ্গলবার সকালে তার গাড়িটি ঢাকা থেকে রূপগঞ্জে যাওয়ার পথে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় থামানো হয়। এসময় তার গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তার কাছ থেকে ২০০ টাকা চাঁদা নেয়া হয়।

সোম ও মঙ্গলবার এসব এলাকায় অবস্থান নিয়ে দেখা যায়, সুলতানা কামাল ব্রিজের ডেমরা এবং রূপগঞ্জ দুই পাড়েই লেগে আছে তীব্র যানজট। ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি চেকিংয়ের নামে প্রকাশ্যেই টাকা আদায় করছেন। কেউ টাকা দিতে না চাইলে রাস্তায় গাড়ি আটকে রাখতে দেখা গেছে। পাশাপাশি চিটাগাং রোড থেকে রানীমহল হয়ে সারুলিয়া বাজার পর্যন্ত লেগে থাকে যানজট। ট্রাফিক পুলিশের জ্বালায় অতিষ্ঠ ও হাফিয়ে উঠেছে এই সড়কের যাত্রীসহ চালকরা।

সুলতানা কামাল সেতু দিয়ে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের ৬৪টি রুটের প্রতিদিন শত শত যানবাহন যানবাহন চলাচল করছে। নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিয়ে ডেমরায় প্রধান সড়কে দিনের বেলায় দেদারসে ট্রাক চলাচলসহ অনুমোদনবিহীন যানবাহন চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন বৈধ যানবাহনের চালকরা। এতে সহজেই বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট। কোনো কোনো জায়গায় দীর্ঘ সময় যানজট থেকে রেহাই পেতে অনেকেই উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। এতে যানজট আরও বেড়ে যায়।  

এ বিষয়ে ডেমরারর এসির (পেট্রোল) সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এমজেড/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]