‘ঢাকা শহর তো ভাসতাছে মামা’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৩০ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৭

‘ঢাকা শহর তো ভাসতাছে মামা। সব ধুইয়া আইজকাই পরিষ্কার অইয়া যাইবো।’ এমন মন্তব্য মধ্যবয়সি রিকশাচালক মফিজউদ্দিনের। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের এক নম্বর গেটের অদূরে জলাবদ্ধ রাস্তা দিয়ে রিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় এ প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে এমন কথা বলেন তিনি।

কারণ জানতে চাইলে মফিজউদ্দিন কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘এইডা কোনো প্রশ্ন করলেন মামা, আইজ যেখানে যাইবেন সেই দিকেই পানি। মনে অইতাছে নদীতে ভাসতাছি। রাস্তাঘাটের ময়লা (প্রস্রাব-পায়খানা) পানি উপচাইয়া পইরা রাস্তায় ভাসতাছে। আপনে যেহানে খাড়াইয়া রইছেন, এর অাশেপাশে তাকাইলেই বুঝতে পারবেন কেমন অবস্থা।’

একটু লক্ষ্য করতেই দেখা গেল ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বিশাল ময়লা সংগ্রহের ডাম্পিং স্টেশন থেকে ময়লা আবর্জনা পানিতে ভাসছে। সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার ফলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ হচ্ছে। আজিমপুর কবরস্থানের উত্তরদিকের প্রবেশদ্বারের সামনে থেকে জনপ্রতি ১০টা দিয়ে ভ্যানগাড়িতে নীলক্ষেত মোড়ে যাচ্ছে।

dhaka

ভ্যানচালকরা কৌতুকচ্ছলে অ্যায় যাইবেন নাকি বরিশাল, পটুয়াখালি ও ভোলা বলে চিৎকার করে যাত্রী ডাকছে। রহমান নামে একজন ভ্যানচালক বলেন, যেভাবে পানি জমছে, আর কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টি অইলে লঞ্চও চলবো।

এ সময় এক বোরখা পরিহিত ভদ্রমহিলাকে মোবাইল ফোনে তার স্বজনকে নিউমার্কেটের দিকে যেন না আসে সে ব্যাপারে সাবধান করতে দেখা যায়। তিনি বলছিলেন, এখানে রাস্তা ডুবে আছে। তোমার আসার দরকার নেই।

রতন নামের এক কিশোর। ধানমন্ডিতে একটি শাড়ির দোকানে কাজ করে। নিউমার্কেটের রাস্তায় পানির বেহাল দশা দেখে রাস্তার ডিভাইডারের ওপর ওঠে জিমন্যাস্টদের মতো পা টিপে টিপে হাঁটতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ভারসাম্য রাখতে না পেরে পানিতে পড়ে যায় সে।

dhaka

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে রতন বলে, ১০ টাকা দিয়ে পানি পার হওয়ার টাকা তার কাছে নেই। জামা কাপড় ভিজে যেন না যায় তাই এভাবে আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারলাম না।

বেশিরভাগ মানুষের জন্য বৃষ্টি ভোগান্তির কারণ হলেও ভ্যানচালকদের জন্য তা আর্শীবাদ হয়। জনপ্রতি ১০টাকা করে পারাপারে আয় রোজগার বেশ ভালো হচ্ছে বলে তারা জানায়।

এমইউ/এআরএস/এমএস