ডায়রিয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে শিশুরা
দেশে প্রতি বছরই বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত এক বছরে আইসিডিডিআরবির তিনটি হাসপাতালে এ রোগে আক্রান্ত দুই লক্ষাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যায় বেশি। চলতি সপ্তাহে আইসিডিডিআরবির প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৪ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডায়রিয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মোট রোগীর শতকরা ৫৬ ভাগ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। প্রতিবেদন অনুসারে মহাখালী , মিরপুর ও চাঁদপুরের মতলবের তিনটি হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মোট দুই লাখ ১৮ হাজার ৮৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। গত বছরের (২০১৩) তুলনায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৮ হাজার। ঢাকার মিরপুর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে শতকরা ২০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোট আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মহাখালীতের এক লাখ ৪৬ হাজার ছয়শ ৯৯, মিরপুরে ২৫ হাজার ৫৪ ও মতলবের হাসপাতালে ৪৬ হাজার তিনশ ৩৪ রোগী ভর্তি হয়েছে।
মোট আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ছিল এক লাখ ২২ হাজার চারশ ৪৪ জন। মেয়েদের তুলনায় অধিক সংখ্যক পুরুষরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
আইসিডিডিআরবির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, তিনটি হাসপাতালেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি ভর্তি হয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা জানান, শিশুকে জম্মের পর থেকে ছয়মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ, ছয়মাসের পর থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য পরিপূরক খাবার ও দুই বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে মায়েদের সচেতনতা এখনও অনেক কম। এ কারণে বিপুল সংখ্যক শিশু পুষ্টিহীনতার শিকার হয়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
আইসিডিডিআরবিতে চিকিৎসা গ্রহণের ফলে শিশুসহ ২৫ হাজার রোগীর জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে দাবী করেন ওই কর্মকর্তারা। বার্ষিক প্রতিবেদনেও ২৫ হাজার রোগীর জীবন রক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,আইসিডিডিআরবির ২০১৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে ওই বছর ডায়রিয়া আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ৮০ হাজার ছয়শ ৫১ জন। এর মধ্যে ঢাকায় এক লাখ ১৭ হাজার চারশ ৯৯, মিরপুরে ২০ হাজার চারশ ২৬ ও চাঁদপুরের মতলব হাসপাতালে ৪২ হাজার সাতশ ২৬ রোগী চিকিৎসা নেয়। এদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ছিল শতকরা ৫৫ ভাগ অর্থাৎ ৯৮ হাজার পাঁচশ ছয় জন।
এমইউ/এআরএস,এএইচ/পিআর