যে কোনো দুর্যোগে বিজিবি জাতির অাস্থার ঠিকানা : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:০১ এএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭

সীমান্ত রক্ষা, অভ্যন্তরীণ অাইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রাকৃতিক কিংবা সামাজিক যে কোনো দুর্যোগে বিজিবি জাতির অাস্থার ঠিকানা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিজিবি দিবস-২০১৭ উপলক্ষে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) পিলখানায় বিজিবির সদর দফতরে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সকাল ১০টায় বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিজিবিতে বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের পদক প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবি সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাদারিত্ব তৈরি, অাবাসনসহ সার্বিক উন্নয়নে অামার সরকার অনেক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বিজিবির উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম প্রহরেই এ বাহিনীর সদস্যরা পাকসেনাদের প্রতিরোধে নামে। ৭১’-এর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পিলখানা থেকে তৎকালীন ইপিঅারের বেতারকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ওয়ারলেসের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অাত্মত্যাগ বিবেচনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠান। এ বাহিনী ২২২ বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত। ১৭৯৫ সালে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন প্রথম গড়ে তোলা হয় এ বাহিনীকে। সময়ের ব্যবধানে ভৌগলিক পরিবর্তনের কারণে নানা নামে দায়িত্ব পালনের পর এখন বিজিবি নামে সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি অামরা সরকার গঠনের ১ মাস ১৯ দিনের মাথায় ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিঅার এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। যা দ্রুত সমাধান করে অামরা নতুন অাইন করি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পুনর্গঠন করি। ওই ঘটনায় ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, অাইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় অাপনারা (বিজিবি) দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসরদের পরিকল্পিপিত টানা অবরোধে গাড়ি ভাঙচুর ও চলন্ত গাড়িতে পেট্রল বোমায় জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যাসহ দেশ অচলের ষড়যন্ত্র চালিয়েছিল। অাপনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তা বানচালে সক্ষম হন।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি রোহিঙ্গা সমস্যা, মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা, রামুর বৌদ্ধপল্লীতে নিরাপত্তা, পার্বত্য এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, ছিটমহলবাসীকে পুনর্বসনে অাপনাদের পদক্ষেপ বিজিবির সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

এফএইচএস/আরএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :