‘স্বপ্ন এখন ইন্সপেক্টর হওয়ার’

আদনান রহমান
আদনান রহমান আদনান রহমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮
২৬ যাত্রীর জীবন বাঁচানো পারভেজ

কুমিল্লার গৌরীপুরে ডোবায় পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস থেকে ২৬ জনকে উদ্ধার করে সর্বোচ্চ পদক বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম পেয়েছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার কনস্টেবল মো. পারভেজ মিয়া।

সোমবার সকালে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮’ এর প্রথম দিন নিজ হাতে পারভেজকে পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাৎক্ষণিক এক মহৎ সিদ্ধান্ত যে তার জীবন এমনভাবে বদলে যাবে কখনো ভাবতে পারেননি পারভেজ।

পদক পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার স্বপ্ন এখন ইন্সপেক্টর হওয়া।’

পুলিশের সর্বোচ্চ পদক পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে পারভেজ মিয়া বলেন, ‘মানবসেবা করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। ভাবিনি তাদের জীবন বাঁচিয়ে এত সম্মান পাবো। এখন কেমন লাগছে সেই অনুভূতি বলে প্রকাশ করার মতো নয়। তবে চাকরি জীবনের শুরুতে যে সম্মান পাচ্ছি তা আমার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

২৬ জনের জীবন বাঁচানোর মতো সাহসী কাজকে কোনো পুরষ্কার দিয়েই মূল্যায়ন করা যাবে না। তবে তার এই সাহস দেখে কুমিল্লা রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ ১০ হাজার টাকা, স্থানীয় পেন্নাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাঁচ হাজার টাকা পুরষ্কার প্রদান করেন। এছাড়াও হাইওয়ে পুলিশ থেকে তাকে বিপিএম প্রদানের সুপারিশ করা হয়।

parvez-1

পারভেজ মিয়ার আর কোনো স্বপ্ন আছে কি না? জানতে চাইলে বলেন, ‘ইন্সপেক্টর হবো। মানবসেবায় যখন যা প্রয়োজন তাই করবো। আরেকটা স্বপ্ন ছিল। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম এবং মা পারুল বেগমকে যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করাতে পারতাম তাহলে জীবনটা সার্থক হয়ে যেত।’

২০১৭ সালের ৭ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ জন যাত্রী নিয়ে মতলবগামী বাস ‘মতলব এক্সপ্রেস’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডোবায় পড়ে যায়। এ সময় গৌরীপুরে দায়িত্বরত ছিলেন কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডোবায় পড়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে পারভেজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পঁচা ও গন্ধযুক্ত ময়লা ডোবার পানিতে তাৎক্ষণিক লাফিয়ে পড়েন। গাড়িতে আটকা পড়া যাত্রীদেরকে উদ্ধার করার জন্য ময়লা পানিতে ডুব দিয়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ভেতর গিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ২৬ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়ির ভেতর আটকা পড়া ৫ থেকে ৬ মাসের একটি শিশুকেও তিনি কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

যাত্রীদেরকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাম হাত ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথাও পান তিনি।

কনস্টেবল মো. পারভেজ মিয়ার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার হোসেনদি গ্রামে। তিনি নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে ৪২তম ব্যাচে প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৬ সালে পুলিশে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স উত্তরায় কর্মরত রয়েছেন।

এআর/এমবিআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :