শীতবস্ত্র বিতরণে জেলায় ২০ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৩:২০ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০১৮
শীতবস্ত্র বিতরণে জেলায় ২০ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব

সারা দেশে বয়ে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। সোমবার (৮ জানুয়ারি) ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শীতপ্রবণ ২০ জেলায় শীতবস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণে ২০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও মানবিক সহায়তা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এ তথ্য জানান।

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী জানুয়ারিতে আরও দুটি শৈত্যপ্রবাহ আসছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘শীত নামার আগেই শীতার্ত মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী তার ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে ১৮ লাখ কম্বল পাঠিয়েছেন। এছাড়া শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার আগে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে ৬৪ জেলায় ৭ লাখ কম্বল এবং ৪১টি জেলার শীতপ্রবণ অঞ্চলে অতিরিক্ত ২ লাখ কম্বল সরবরাহ করেছি।’

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘শীতে মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে এমন ২০টি জেলার মধ্যে রয়েছে- দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, যশোর, ঝিনাইদহ, পাবনা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া। এই ২০ জেলায় এক লাখ কম্বল ও ৮০ হাজার শুকনো খাবার পাঠিয়ে দিয়েছি।’

‘এছাড়া সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী ১২ হাজার ৯০০ কম্বল আমরা বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছি।’ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মোট ১০ লাখ ১১ হাজার ৯০০ কম্বল ও ৮০ হাজার শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে জানিয়ে মায়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারের কম্বল এবং সব মিলিয়ে ২৮ লাখ ১০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শীত না কমা পর্যন্ত এই ২০ জেলায় ২০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে শীতবস্ত্র ও শুকনো খাবার সুষ্ঠু বণ্টন ও আরও কী প্রয়োজন সেখান থেকে পাঠালে আমরা এখন থেকে তাৎক্ষণিক পাঠিয়ে দেবো। এছাড়া জেলায় জেলায় কন্ট্রোল রুম থাকবে।’

শীতে কতজন মানুষ মারা গেছে- জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, একটা মেয়ে মারা গেছে। তার ট্রমা ছিল, আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। শীতের কারণে নয়। একজন শিক্ষক ছিলেন ৮২ বছর বয়সী। আরেকজনও দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন, এটা নরমাল ডেথ। মোট তিনজন মারা গেছে। শীতের কারণে, বস্ত্রের কারণে (মারা গেছে) এমন কোনো ঘটনা প্রকৃত পক্ষে ঘটেনি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শীতে মারা গেছে, মানে কম্বলবিহীন বা ওইভাবে সেই ধরনের কোনো খবর আমাদের কাছে নেই।’

আরএমএম/আরএস/এআরএস/আরআইপি