পানিপথে হজযাত্রায় সৌদির না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৬:২৮ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৮
পানিপথে হজযাত্রায় সৌদির না

সৌদি আরবের সঙ্গে হজ চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মতিউর রহমান। এছাড়া পানিপথে জাহাজের মাধ্যমে হজযাত্রী পরিবহনে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিলেও সৌদি আরব এ প্রস্তাব অনুমোদন করেনি বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সৌদি-বাংলাদেশ হজ চুক্তি শেষে দেশে ফিরে রোববার সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন ও অবশিষ্ট এক লাখ ২০ হাজার জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করার সুযোগ পাবেন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও মোট হজযাত্রীর ৫০ ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ৫০ ভাগ সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে।’

হজযাত্রীর কোটা বাড়ানোর জন্য সৌদি সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলেও জানান মতিউর রহমান। ১৪ জানুয়ারি মক্কায় সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের হজ চুক্তি হয়।

পানিপথে জাহাজে হজযাত্রী পরিবহনের কথা শোনা যাচ্ছিল। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি-না জানতে চাইলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চিন্তা আছে। কিন্তু সৌদি সরকার এটা অনুমোদন করেনি। বাংলাদেশ থেকে জাহাজে হজযাত্রী নিতে আমাদের প্রস্তাব আছে। কম খরচে বাংলাদেশের হজযাত্রী যেতে পারবেন। কিন্তু তারা (সৌদি সরকার) এটা এখন পর্যন্ত অনুমোদন করেনি।’

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান বলেন, ‘ভারত থেকে মাত্র দুইবার একটা (সৌদি আরব) শিপ যাবে, তাতে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজারের বেশি লোক হবে না। আমাদের মন্ত্রী প্রস্তাবটি তুলেছিলেন কিন্তু আমরা তাদের (সৌদি সরকার) সম্মতি পাইনি। জাহাজে দিতে পারলে অবশ্যই হজযাত্রীদের চাপ কমে আসত। ভারতের মুম্বাই থেকে জেদ্দা যেতে তিন থেকে চারদিন সময় লাগে। আমাদের দেশ থেকে অনেক সময় লাগে সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে ১৫ থেকে ১৭ দিন লাগে।’

সৌদি সরকার নিরাপত্তার প্রশ্নে সব ধরনের শৃঙ্খলার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বিশ্বাস বেসরকারি হজ এজেন্সির মালিক ও মোনাজ্জেমরা (সৌদি যাওয়া এজেন্সির প্রতিনিধি) হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সব বিধি-বিধান ও নিয়ম শৃঙ্খলা শতভাগ অনুসরণ করবে যাতে আল্লাহর মেহমানরা নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে হজ পালন করতে পারেন।’

২০১৬ সাল থেকে পুরোপুরি ই-হজ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে জানিয়ে মতিউর রহমান বলেন, ‘হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রাক-নিবন্ধন, নিবন্ধন, ই-হজ সিস্টেমে ভিসা লজমেন্ট, ভিসা প্রাপ্তি, পাসপোর্ট যাচাই ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে হচ্ছে। হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে আমরা বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং আমাদের আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে।’

সৌদিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট, প্রভাব পড়তে পারে হজযাত্রায়:

সৌদি রাজকীয় সরকার সব ধরনের ক্রয় ও সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেছে জানিয়ে মতিউর বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। আবাসন, খাদ্য ও পরিবহনের ওপর এর প্রভাব পড়বে। এই ভ্যাট যাতে হজযাত্রীদের ওপর আর্থিক প্রভাব সৃষ্টি না করে সেজন্য বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় সচেষ্ট থাকবে।’

ভ্যাট হজযাত্রীদের ওপর কার্যকর হবে কি-না জানতে চাইলে ধর্ম সচিব বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা তুলেছিলাম। বলেছিলাম কোন খাতে কত টাকা খরচ হবে তা যেন সুষ্পষ্টভাবে জানানো হয়। তারা (সৌদি সরকার) এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেনি। প্রাথমিকভাবে যেটা জেনেছি তাতে মনে হয় না যে হজযাত্রীদের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়বে। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জানতে আমাদের আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। তারা জানিয়েছে দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরো বিষয়টি আমাদের অবহিত করবে।’

১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হজ প্যাকেজ:

কবে নাগাদ হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘ওখান থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর আমরা হজ প্যাকেজ ঘোষণা করব। এখন কিছু একটা করে ফেললে পরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। হজযাত্রীদের ওপর আর্থিক চাপ যাতে না পড়ে সেজন্য আমরা শতভাগ সচেষ্ট থাকব। ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখের মধ্যে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে।’

আরএমএম/এনএফ/এমআরএম/এমএস