প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন আবদুল হামিদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৭:০০ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন সাতবারের সংসদ সদস্য মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সহকারী নির্বাচনী কর্মকর্তা খন্দকার মিজানুর রহমান জানান, আজ মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবদুল হামিদ ছাড়া আর কারো মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি।

তিনি জানান, ৭ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। তার মনোনয়নপত্র বৈধ হলে অর্থাৎ, কোনো ভুল-ত্রুটি না থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সে সময়ও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সোমবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবদুল হামিদের নামে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রথমটিতে প্রস্তাবক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সমর্থক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

দ্বিতীয়টিতে প্রস্তাবক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সমর্থক আ স ম ফিরোজ।

আর তৃতীয়টিতে প্রস্তাবক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং সমর্থক এমপি আতিউর রহমান আতিক। তিনটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বাছাইয়ের পর একটি গৃহীত হবে।

সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ৭৪ বছর বয়সী আবদুল হামিদের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. আবদুল হামিদ।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের ৯০-৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ফলে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

গত ৩১ জানুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আবদুল হামিদকে আবারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার আবদুল হামিদের পক্ষে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং রোববার রাষ্ট্রপতি ওই মনোনয়নপত্রে সই করেন।

স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে আবদুল হামিদ এ পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার নির্বাচিত হলে এটাই হবে আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ।

এইচএস/এইউএ/জেএইচ/আইআই