‘আমার মেয়েকে অন্ধকার কবরে নিও না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫২ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৮

‘আমার মেয়েকে অন্ধকার কবরে নিয়ে যেও না। বাবুটা একা থাকতে পারবে না। আমার মামনিটা আমাকে ছাড়া কখনো একা থাকেনি। কবরে ও একা থাকবে কী করে? আমাকেও ওর সঙ্গে নিয়ে যাও।’

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত বিমানের নিহত পাইলট পৃথুলা রশীদের মা রাফেজা বেগম মেয়ের কফিনের উপর শুয়ে অশ্রুসজল কণ্ঠে আর্তনাদ করে এসব কথা বলছিলেন।

p

রাফেজা বেগম বলেন, ‘মাগো মা, আমাকে ছেড়ে তুই কেমনে চলে যাবি? আমি তো তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না। তুই আমার একমাত্র বুকের ধন। তুই চলে গেলে আমার সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। তুই ছাড়াতো আমার আর কেউ নাই। মেয়েটা আমার একমাত্র বুকের ধন। ও চলে গেলে কে আমাকে মা বলে ডাকবে, কে আমাকে আদর করে খাবার খাইয়ে দিবে।’ বলতে বলতে ক্যান্সারে আক্রান্ত অসুস্থ মা বারবার মূর্ছা যান।

সোমবার একটি বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশে আনা হয় নেপালে ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত বিমানের নিহত পৃথুলাসহ ২৩ জনকে। তাদের আর্মি স্টেডিয়ামে এনে জানাজা পড়ানো হয়। এরপর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পৃথুলার প্রথম জানাজা পর তার মরদেহ মিরপুর শ্যামলী আশা টাওয়ারে এনে দ্বিতীয় বারেরমতো জানাজা পড়ানো হয়। এরপর সোমবার রাত ৮টায় পৃথুলাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়।

p

পৃথুলাকে শেষ বিদায় জানাতে আসা বান্ধবী শাম্মী আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগস্ট মাসে পৃথুলাসহ সকল বান্ধবী এক হয়ে আনন্দ করার কথা ছিল। সাবেক সহপাঠীদের সঙ্গে অনেকদিন দেখা না হওয়ায় পৃথুলাই এই উদ্যোগ নিয়েছিল। ওর সেই ইচ্ছা পূরণ হলো না।’

তিনি বলেন,পৃথুলা অনেক পরোপকারী ছিল। পরীক্ষার আগে ও নিজের নোট অন্যদের শেয়ার করতো। কারো কোনো প্রবলেম হলে পৃথুলা এগিয়ে যেতো।’

p

এসব স্মৃতিচারণ করতে করতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। একই সময় এ দুঘটনায় নিহত মিরপুরের নিবাসী বিমানের যাত্রী বিলকিস আরা বেগমকেও তার স্বজনরা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করেন।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো আর্মি স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছায়। স্টেডিয়ামে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে নিহতদের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

উলে­খ্য, গত ১২ মার্চ (সোমবার) ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আঁছড়ে পড়ে।

৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বন্ত হয়। এতে ৫১ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। বাকিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।

এমএইচএম/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :