স্বামীর আগুনে দগ্ধ মুন্নীর পাশে নূরজাহান মুক্তা এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৮

১৬ বছর বয়সী কিশোরী মুন্নীকে ১৮ বছর বয়স দেখিয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন তার মা-বাবা। কিন্তু বিয়ের ৩ মাস যেতে না যেতেই মেয়ের কপালে জুটেছে যৌতুকের নির্যাতন। স্বামীর দেয়া আগুনে তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে। এখন যন্ত্রণায় ছটফট করছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের মনিনাগ গ্রামের আবদুল লতিফের মেয়ে মুন্নীর বিয়ে হয়েছিল সোহাগ (২৫) নামের এক যুবকের সঙ্গে। সোহাগ বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের নোয়াহাটা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির দুলালের ছেলে।

nurjahan-mp-2

বিয়ের মাত্র ৩ মাসের মধ্যে গত ২৩ মার্চ স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ হতে হয় তাকে। প্রথমে মন্নীকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুন্নীকে রেফার করা হয়। কুমিল্লায় দুদিন থাকার পর অবস্থা বেগতিক হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পরামর্শ দেন সেখানকার চিকিৎসকরা। কিন্তু তার অসহায় বাবা-মা টাকার অভাবে ঢাকায় মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না।

মুন্নীর এমন করুণ পরিণতির কথা শুনে মানবিক সহায়তায় হাত বাড়ান চাঁদপুরের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা এমপি। তার নির্দেশনা ও সহযোগিতায় বুধবার দিবাগত রাতেই মুন্নীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নিয়ে আসা হয়।

ঢামেক হাসপাতালে মুন্নীকে ভর্তি করার পর মেডিকেলের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নূরজাহান মুক্তা এমপি ঢামেকে গিয়ে দগ্ধ মুন্নীর চিকিৎসার সব দায়িত্ব ও ব্যয়ভার নেন। অার মুন্নীকে বার্ন ইউনিটে একটি বেডে নেয়ার ব্যবস্থা করেন।

nurjahan-mp-2

এ বিষয়ে নূরজাহান বেগম মুক্তা এমপি জাগো নিউজকে বলেন, ১১দিন আগে যৌতুকের জন্য স্বামীর দেয়া আগুনে ঝলসে যায় মুন্নীর শরীর। আমার নিজ এলাকা হাজীগঞ্জে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। এর দায়ভার আমারও। তাই মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি জানামাত্র তাকে ঢাকা মেডিকেলে আনতে বলি। আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেনও মুন্নীকে দেখেছেন। আমি তার চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছি।

ঢামেক হাসপাতালে কথা হয় মুন্নীর মা লাইলি বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিন মাস আগে পারিবারিকভাবে সোহাগের সঙ্গে মুন্নীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আমরা কিছু টাকা জামাইকে দেই। কিন্তু বিয়ের দুই মাস না যেতেই এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ-সৃষ্টি করে জামাই। আমরা টাকা দিতে না পারায় ২৩ মার্চ আমাদের ভাড়া বাসায় মুন্নীকে গ্যাসের চুলার কাছে নিয়ে মুখচাপা দিয়ে গ্যাসের চুলার উপর চেপে ধরে রাখে। এ সময় মেয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সোহাককে গণপিটুনি দেয়। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা।

এফএইচ/জেডএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।