বাজেট বিষ-মধু মিশ্রিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫১ পিএম, ১৯ জুন ২০১৮
ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ‘বিষ আর মধু’ এক সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফিরোজ রশিদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজনৈতিক দর্শন নেই। তাই এ বাজেটকে ‘বাজেট’ বলা যায় না। অর্থমন্ত্রী যে দলের পক্ষ থেকে বাজেট দিয়েছেন সেই দলের নীতি-আদর্শ, দর্শনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বাজেট দিয়েছেন। বাজেটে বিষ আর মধু এক সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দেশের জনগণ তো বিষ আর মধু এক সঙ্গে খায় না।

তিনি বলেন, আপনি যদি একবালতি দুধে এক ফোটা চনা (টক) দেন তাহলে সমস্ত দুধ নষ্ট হয়ে যাবে। তেমনি প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের টাকায় ব্যাংক লুটেরাদের ভর্তুকি দেয়ার মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী গোটা বাজেটের দর্শন নষ্ট করে দিয়েছেন। এ বাজেটে উনি ভেজাল মিশিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। পাকিস্তান আমলে ২২ ধনী শ্রেণির পরিবর্তে এখন ১২২ ধনী পরিবারের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মোট সম্পদের ৮০ ভাগ ১২২ পরিবারের হাতে জিম্মি। বাকি ২০ ভাগের মালিক অন্যরা। অর্থমন্ত্রী এ ধনী শ্রেণির জন্যই বাজেট দিয়েছেন। যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে ব্যাংক খালি করে দিয়েছেন। উনি ব্যাংক ডাকাতদের সুবিধা দিয়ে বাজেট দিয়েছেন, এটা হতে পারে না। এ আমরা মানতে পারি না।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তো কোনো দিন পাকিস্তানের ২২ পরিবারের কাছে মাথা নত করেননি। আপনি কোনো লুটেরাদের কাছে মাথা নত করবেন? ব্যাংকে লুটপাট অর্থমন্ত্রী, মন্ত্রণালয় নিরব, বাংলাদেশ ব্যাংক নীরব, অর্থ বিভাগ নিরব। ব্যাংকের ওপর মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। কারণ ব্যাংক এখন একটি পরিবারিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। পারিবারিক ব্যাংক করে অবাধে লুটপাট চলছে।

ফিরোজ রশিদ বলেন, আওয়ামী লীগ টানা ১০ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকায় বড় বড় প্রকল্প নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেলে অহংকারও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে এখন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অহংকার।

জাপার এ নেতা বলেন, প্রশাসনে এখন সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের বাইরে প্রশাসনে কাউকে পাওয়া যাবে না। এরা কোথায় ছিল? কে তাদের আওয়ামী লীগ বানাইল। তাদের আওয়ামী লীগটা করলো কে? প্রশাসনে আওয়ামী লীগের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কে কত বড় আওয়ামী লীগ এটার জন্য গবেষণা চলছে। কার নানার বাড়ির কাছে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ছিল। কার চাচার সঙ্গে কার বিয়ে হয়েছিল এসব দিয়ে আওয়ামী লীগ বের করার চেষ্টা হচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগের বাইরে কাউকে পাওয়া যায় না। আসল আওয়ামী লীগ নকল আওয়ামী লীগ বেছে নেয়া কঠিন হয়ে গেছে। তাদের দাপট এত বেশি যে সাধারণ মানুষকে তারা তোয়াক্কা করে না। তারা ইচ্ছামতো কাজ করছে, এটা ভালো লক্ষণ নয়।

এইউএ/এএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :