‘সাধারণ মানুষের জন্য এ বাজেট হয়নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৩ পিএম, ২৫ জুন ২০১৮

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন আয়োজিত 'প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৮-২০১৯: নাগরিক ভাবনা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ মনে করে এটি বড় বাজেট। কিন্তু তারা তো সব কিছু বোঝে না। সাধারণ মানুষের জন্য এ বাজেট হয়নি। অল্প কিছু শ্রেণিকে তুষ্ট করার জন্য বাজেটটা হয়েছে। একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষ এ থেকে বেশি সুবিধা পাবে। তাছাড়া বাজেটে এনালাইটিকাল কোনো বর্ণনা নেই।'

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলোর প্রতি দৃষ্টি ও মনোযোগ এত বেশি যে এতে মাঝারি বা ছোট প্রকল্পের আওতায় থাকা লোকগুলো কিন্তু সাফার হচ্ছে। মেগা প্রকল্পগুলো ভবিষ্যতে কাজে লাগবে, কিন্তু এসব চিন্তা করলে জনকল্যাণমুখী বাজেট এটাকে বলা যাবে না।

প্রকল্পে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বড় বড় প্রকল্প থেকে দুর্নীতি হচ্ছে। এখন কিন্তু দুর্নীতি ৫০০ বা হাজার টাকায় নয়, এখন দুর্নীতি হচ্ছে হাজার কোটি টাকায়। বাজেটে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা নেয়া হবে ব্যাংকিং খাত ও সঞ্চয়পত্র থেকে।

অথচ সরকার যখন এ খাতে চাপ দেয় তখন তা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের ওপর গিয়ে পড়ে। ব্যাংকিংখাতে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ কিংবা এসব বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির বিচার না করায় ছোট আমনতকারীরাও আস্থাহীনতায় রয়েছে। ফলে ব্যাংকিংখাতও কঠিন সময় পার করছে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে সক্ষমতা দরকার। সেই সক্ষমতা তো এখনও আমাদের নেই। সরকারি, বেসরকারি ও রেগুলেটরিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি দরকার। কিন্তু তা হয়নি। এবারের বাজেটটা তাই আলাদাভাবে চমকের কোনো বাজেট নয়। আমরা ভেবেছিলাম উন্নয়নের বাজেট হবে এবং উন্নয়নটা হবে টেকসই। সেটা দেখছি না।

সালেহ উদ্দিন আরও বলেন, শিক্ষাখাতে যে বাজেট রাখা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজেট রাখা হয়েছে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায়। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে বরাদ্দ কম।'

বাজেটে সড়ক সংস্কারে বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, মাত্র ১ বছরের মাথায় সড়ক উন্নয়নে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন যদি হয় তাহলে ১ বছরের মাথায় এই বরাদ্দ কেন?

সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার গবেষক ড. তোফায়েল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ আলী ইমাম মজুমদার, অর্থনীতিবিদ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী প্রমুখ।

এইউএ/এমআরএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :