রূপপুরে দ্বিতীয় ইউনিটের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৫ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৮

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের ফার্স্ট কংক্রিট পোরিং ডেট (এফসিডি) কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার দুপুর ১২টায় এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ছিলেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানোভিচ বোরিসভ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি প্রমুখ।

এর আগে গত বছর ৩০ নভেম্বর এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কংক্রিট ঢালাইয়ের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম ইউনিটের এই কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে (নিউক্লিয়ার নেশন) যুক্ত হয়েছে। বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের ৩২তম সদস্য বাংলাদেশ।

প্রায় ১২শ’ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা আণবিক শক্তি কর্পোরেশনের (রোসাটম) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ। প্রকল্প বাস্তবায়নের মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া। এই প্রকল্পে রাশিয়ার উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক ৩+ প্রজন্মের ‘ভিভিইআর ১২০০’ প্রযুক্তির পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হবে।

১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিটে মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২৪,০০ মেগাওয়াট। আগামী ২০২৩ সালের প্রথম ইউনিটটি এবং পরের বছর ২০২৪ দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে টানা ৬০ সছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এরপর অতিরিক্তি আরও ২০ বছর উৎপাদন কাজ চলবে। এছাড়া এই প্রকল্পে ভবিষ্যতে আরও দইটি ইউনিট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শনিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন তিনি।

এদিন প্রধানমন্ত্রী পাবনাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পাবনা-মাঝগ্রাম রেলপথের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৮ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

উদ্বোধন :

এদিন জেলার পুলিশ লাইন্স মাঠে জনসভার প্যান্ডেল থেকে প্রধানমন্ত্রী ৩১টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। তা হলো- ঈশ্বরদী থেকে মাঝগ্রাম হয়ে পাবনা পর্যন্ত রেলওয়ে সেকশনে ট্রেন চলাচল; পাবনা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস; ঈশ্বরদী থানা ভবন; জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ, আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া, ঈশ্বরদী উপজেলার পাক্শী, সলিমপুর, লক্ষ্মীকুণ্ডা, সাঁড়া, পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর এবং চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস; ফরিদপুর উপজেলায় বড়াল নদীর উপর নারায়ণপুর সেতু; ভাঙ্গুড়া উপজেলায় গোমানী নদীর উপর নৌবাড়িয়া সেতু; ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; চাটমোহর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; পাবনা সিটি কলেজের একাডেমিক ভবন; আটঘরিয়ার দেবোত্তর ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন; খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ, একাডেমিক ভবন; চাটমোহর মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন; সুজানগরের বোনকোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন; সুজানগর মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন; সাঁথিয়ার শহীদ নুরুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন; ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন; সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের প্রশাসনিক ভবন; আটঘরিয়ার ডেঙ্গারগ্রাম ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন; আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; চাটমোহর উপজেলায় গোমানী নদীর উপর নিমাইচড়া সেতু; চাটমোহর উপজেলায় কাটাখাল সেতু; চাটমোহর উপজেলায় আত্রাই নদীর উপর আত্রাই সেতু; সুজানগর উপজেলায় ধোলাইখাল সেতু এবং জেলার চাটমোহর, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষণা।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন :

১৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তা হলো- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সিগন্যালিংসহ রেললাইন নির্মাণ; জেলা সদরে ১০০০ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল; সুজানগর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র; আটঘরিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন; বেড়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন; সুজানগর উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন; জেলা রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; পুলিশ লাইনস মহিলা পুলিশ ব্যারাক ভবন; সুজানগর উপজেলায় সাগরকান্দি ইউনিয়ন ও আটঘরিয়া উপজেলায় হাদল ইউনিয়ন ভূমি অফিস; পাবনা মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল; জেলা শিল্পকলা একাডেমি; সাঁথিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ; পাবনা আদর্শ মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন; সাঁথিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; বেড়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার ও পানি শোধনাগার নির্মাণ; সাঁথিয়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার নির্মাণ; ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ।

উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত পুলিশ লাইন্স মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এইউএ/এমবিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :