রাজধানীতে পরিবহন ভাড়ায় লেগেছে ‘ঈদ বকশিস’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪২ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৮
ফাইল ছবি

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানীর বেশিরভাগ মানুষ এখন গ্রামের বাড়িতে। ফলে ফাঁকা হয়ে পড়েছে রাজধানীর সড়কগুলো। যারা রয়ে গেছেন ফাঁকা রাস্তায় বাধাহীন চলাচলে তাদের আনন্দে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। কিন্তু রাজধানীর গণপরিবহনের ভাড়ায় লেগেছে ‘ঈদ বকশিস’।

মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) থেকে রাজধানীর গণপরিবহনে বকশিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। কোনো কোনো রুটের বাসে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই ঈদ বকশিস আদায় হচ্ছে। ‘বকশিস’ এর কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে।

বুধবার (২২ আগস্ট) মুসলিম সম্প্রদায়ে দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, ঈদের আগের দিন, ঈদের দিন ও পরের দিন ভাড়ার সঙ্গে বকশিস নেবেন তারা।

ঈদ বকশিসে কারও আপত্তি না থাকলেও কেউ কেউ নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত দিতে রাজি হচ্ছেন না। ‘বকশিস’ নিয়ে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে কোথাও কোথাও বসচাও হচ্ছে।

‘বকশিস’ বাদ যাচ্ছে না সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার ভাড়াতেও।

তরাব পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-জ-১১৩২১৯) যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগাং রোডে মঙ্গলবার ভাড়া নিচ্ছে ১৫ টাকা, অন্য সময়ে এ ভাড়া ১০ টাকা। যাত্রাবাড়ী থেকে শনির আখড়া ভাড়া নিচ্ছে পাঁচ টাকার স্থলে ১০ টাকা।

এ বাসের কন্ডাক্টর নায়েব আলী বলেন, ‘মামা এ দুই একদিনই তো আমরা বকশিস নেই। কেউ না দিলে জোরও করি না।’

মেশকাত ট্রান্সপোর্টের যাত্রাবাড়ী থেকে মোহাম্মদপুরের ভাড়া নিচ্ছে ৩৫ টাকা। শনির আখড়া থেকে মোহাম্মদপুরে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। অন্যান্য সময় এই ভাড়া ৪০ টাকা।

সায়েদাবাদ থেকে গাজীপুর রুটে চলাচলকারী বলাকা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪০৭৮৪) চালক জানান, সায়েদাবাদ থেকে গাজীপুরের ভাড়া মঙ্গলবার থেকে ১০০টাকা। অন্য সময়ে এ ভাড়া ৬০ টাকা।

একইভাবে যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলীর ভাড়া গাবতলী লিংক পরিবহন নিচ্ছে ৪০ টাকার স্থলে ৫০ টাকা।

যাত্রাবাড়ী-মিরপুর রুটে চলাচলকারী শিখর পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো জ-১১১১৩৮) কন্ডাক্টর হৃদয় জানান, যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুরের ভাড়া ৩০ টাকা। এখন ৪০-৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে।

রাজধানীর রায়েরবাগ থেকে গুলিস্তান চলাচলকারী শ্রাবণ পরিবহন মঙ্গলবার থেকে ১৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকা নিচ্ছে।

শ্রাবণ পরিবহনের যাত্রী কামাল হোসেন গুলিস্তানে নেমে বলেন, ‘বকশিস তো খুশি হয়ে দিতে হয়। এরা তো ভাড়া নির্ধারণ করে আদায় করছে।’

যাত্রাবাড়ি থেকে মিরপুর যাবেন শাহরিয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় বাস ভাড়া দু’চার টাকা বেশি নেয় এটা তো নতুন কিছু না। তারা ঈদ না কইরা মানুষ টানে। ঈদের সময় একটু বেশি নিতেই পারে। দুই একদিনই তো।’

গুলিস্তান থেকে বাসাবো চলাচলকারী ম্যাক্সি গুলিস্তান থেকে বাসাবোর ভাড়া ১৬ টাকা হলেও মঙ্গলবার থেকে ২০ টাকা করে নিচ্ছে।

গুলিস্তানে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের কাছে রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইউনুস মিয়া। তিনি বলেন, ‘ভাড়া এখন ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। অনেকে খুশি হইয়া আরও বেশিও দেয়। ঈদের সময় না?’

আরএমএম/এএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :