জামায়াত নিষিদ্ধ ও রাজাকারদের তালিকা প্রকাশের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০১৮

একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ ও তাদের নাগরিক অধিকার সংকোচনসহ রাজনীতিতে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে শুক্রবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠন গৌরব ৭১ এর আয়োজনে এক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে প্রতিটি আন্দোলনে জামায়াত এদেশের বিরোধিতা করেছে। আজ পর্যন্ত তাদের সেই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাই জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ঐক্য হয় আদর্শের দ্বারা। কিন্তু যে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলো তাতে কোনো আদর্শ আছে বলে মনে হয় না। এ ঐক্য হলো ক্ষমতায় যাওয়ার ঐক্য।’

ড. কামালের উদ্দেশে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘আপনি ১৯৭২ সালের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা। আর সেই সংবিধানে লেখা আছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা। তাহলে আপনি এখন কেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে ঐক্য করলেন?’

গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, ‘যারা বাংলাদেশ চায় নাই, তাদেরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের পরিবারের ভোটাধিকারও নিষিদ্ধ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী রাজাকারদের বাড়িগুলোতে আলাদা রং দেয়া উচিত। যাতে সাধারণ মানুষ সেই রং দেখে তাদের দিকে ঘৃণার চোখে তাকায়।’

আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি কুহেলী কুদ্দুস মুক্তি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনের নির্যাতন করেছে তাদের কেন স্বাধীনদেশে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেবে? তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’

গৌরব ৭১-এর সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন বলেন, ‘আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে হলে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ, তাদের নাগরিক সুবিধা সংকুচিতসহ রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। আগামী নির্বাচনে কোনো রাজাকার প্রার্থী আসলে রাজপথে তাদের প্রতিহত করা হবে।’

সমাবেশে গৌরব ৭১-এর সভাপতি এস এম মনিরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্যাহ, গৌরব-৭১ এর উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদ সদস্য সানজিদা খানম, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার প্রমুখ।

এমএ/এনডিএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :