উৎকণ্ঠা উৎসবে ভোট শুরু

সিরাজুজ্জামান
সিরাজুজ্জামান সিরাজুজ্জামান , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০০ এএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮

একদিকে উৎকণ্ঠা, অন্যদিকে উৎসবের আমেজে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ভোট। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ভোটগ্রহণ সকাল ৮টায় শুরু হয়ে চলবে টানা ৪টা পর্যন্ত। শীতের ঘন কুয়াশা ও সকালের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে ভোট দিতে যাচ্ছেন ভোটাররা। সকালে ভোটারদের সংখ্যা কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা বাড়বে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

দীর্ঘ দশ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ভোটের লড়াইয়ে নেমেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আর দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি। তবে ভোট কেমন হবে বা হয়েছে তা বেলা ১২টার পরই সবার কাছে স্পষ্ট হবে। নির্বাচন নিয়ে বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একের পর এক অভিযোগ তুললেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হচ্ছে আজ। প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোটগ্রহণ পিছিয়ে ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এবারের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৬১জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৩৩জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১২৮ জন প্রার্থী।

নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশকে কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্যে আনা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা। সড়কে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সেনা সদস্যরা রয়েছেন তল্লাশিতে।

southeast

সারাদেশে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। মোতায়েন রয়েছে প্রায় ৭ লাখের বেশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবে ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য। এসব কেন্দ্রে পাহারায় থাকবে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ, যা এবার প্রথমবার যোগ করা হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য। ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে আজ সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আগেই।

এবারই প্রথমবারের মতো ছয়টি সংসদীয় আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো হলো- ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, রংপুর-৩, খুলনা-২, সাতক্ষীরা-২ ও চট্টগ্রাম-৯।

গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই অনেকেই আরেকটি নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ বেশির ভাগ দল অংশ নেয়নি। কিন্তু এবার সব রাজনৈতিক দল ও জোট নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ওই নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচনের পরিবেশ ও আমেজ ভিন্নতর। নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর পাশাপাশি অনিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দল প্রধান দুই জোটের সঙ্গে জুটে এ নির্বাচনে লড়ছেন। এর বাইরে বাম মোর্চা ও ইসলামী কয়েকটি দলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে চষে বেড়িয়েছেন।

এর আগে টানা ১৮ দিন প্রচারের সুযোগ পেয়েছে প্রার্থীরা। আর এই প্রচারণার সময় সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ভোটে মূল লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষের মধ্যে। তবে প্রচার শেষ হলেও নৌকার চেয়ে প্রচারে পিছিয়ে ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। বিশেষ করে, রাজধানীতে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের কোন প্রার্থী কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তা জানারই সুযোগ পায়নি রাজধানীবাসীদের অনেকেই। তবে ব্যালটে নৌকা-ধানের শীষের প্রতীক থাকার কারণে কেন্দ্রে গিয়েই তাদের পছন্দের প্রতীক ও প্রার্থীকে চিনে নিতে বেগ পেতে হবে না।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, এবার ভোটে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ৬৬ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে দুইজন বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জন জেলা প্রশাসক।

southeast

সচিব আরও জানান, ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২টি ভোটকক্ষে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২ জন। নতুন প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভোটার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন।

ভোটকেন্দ্র এবং নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৬ লাখ ৮ হাজার দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে পুলিশ প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার, আনসার প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার, গ্রাম পুলিশ প্রায় ৪১ হাজার।

সেনাবাহিনী (প্রতি প্লাটুনে ৩০জন) ৩৮৯টি উপজেলায় ৪১৪ প্লাটুন, নৌবাহিনী ১৮টি উপজেলায় ৪৮ প্লাটুন, কোস্টগার্ড (প্রতি প্লাটুনে ৩০জন) ১২টি উপজেলায় ৪২ প্লাটুন, বিজিবি (প্রতি প্লাটুনে ৩০জন) ৯৮৩ প্লাটুন, র্যাব (প্রতি প্লাটুনে ৩০জন) প্রায় ৬০০ প্লাটুন ভোটের মাঠে নিয়োজিত আছে।

এ ছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা (র্যাবসহ) প্রায় ২ হাজার প্লাটুন (প্রায় ৬৫ হাজার), তাছাড়া সারাদেশে জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের টহল দল নিয়োজিত আছে।

ভোটের দায়িত্বে ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী কর্মকর্তা :

১ হাজার ৩২৮ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য ৬৫২ জন, অবশিষ্ট ৬৭৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে নিয়োজিত রয়েছেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬৪০জন, ১২২টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে ২৪৪ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪০ হাজার ১৮৩জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৬২৪ জন।

এইচএস/এমবিআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]