স্কুলে শান্ত, বাসায় ঝড়? মায়ের কাছেই কেন জেদ করে শিশু

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ০১ মার্চ ২০২৬

অনেক সময় স্কুলে সবার প্রিয়, ভদ্র আর নিয়ম মেনে চলা সন্তানটি বাসায় ফিরেই খিটখিটে, কান্নাকাটি বা রাগ দেখায়। মায়ের মনে প্রশ্ন জাগে - আমার সঙ্গেই এমন করে কেন?

মনোবিজ্ঞান বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি খারাপ আচরণ নয়; বরং গভীর আস্থার লক্ষণ। গবেষণাভিত্তিক কয়েকটি ব্যাখ্যা আছে এর পেছনে। চলুন জেনে নেওয়া যাক মায়ের কাছে আসলেই কেন শিশু অভিযোগ ও জেদ করে -

স্কুলে শান্ত, বাসায় ঝড়? মায়ের কাছেই কেন জেদ করে শিশু

১. নিরাপদ আশ্রয়

অ্যাটাচমেন্ট থিওরি অনুযায়ী, শিশু তার প্রধান কেয়ারগিভারকে - বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটি মা - একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখে। তত্ত্ব বলছে, শিশুরা যাকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে, তার সামনেই নিজের খাঁটি আবেগগুলো প্রকাশ করে।

রাগ, কান্না বা গভীর মনখারাপ - এসব আবেগ আসলে আস্থার প্রকাশ। শিশু জানে, এই মানুষটি তাকে ছেড়ে যাবে না।

স্কুলে শান্ত, বাসায় ঝড়? মায়ের কাছেই কেন জেদ করে শিশু

২. সারাদিনের আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্লান্তি

স্কুল বা ডে-কেয়ারে শিশুদের নিয়ম মানতে হয়, চুপচাপ বসতে হয়, ভদ্র ভাষা ব্যবহার করতে হয়। এতে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি ক্ষয় হয়।

আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, আত্মনিয়ন্ত্রণ একটি সীমিত মানসিক সম্পদ। দিনের শেষে যখন শিশু মায়ের কাছে ফিরে আসে, তার স্নায়ুতন্ত্র ‘পারফরম্যান্স মোড’ থেকে ‘সেফটি মোড’-এ যায়। তখন জমে থাকা চাপ হঠাৎ বেরিয়ে আসে - যা আমরা দেখি মেল্টডাউন হিসেবে।

৩. মায়ের উপস্থিতিতে দ্রুত স্ট্রেস কমে

গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের কণ্ঠ, গন্ধ বা স্পর্শ শিশুর স্ট্রেস হরমোন (কর্টিসল) কমাতে সাহায্য করে। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ আছে, মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ শিশুর স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করতে পারে।

অর্থাৎ, মায়ের উপস্থিতি শিশুর জন্য এক ধরনের জৈবিক রিসেট বাটন হিসেবে কাজ করে।

স্কুলে শান্ত, বাসায় ঝড়? মায়ের কাছেই কেন জেদ করে শিশু

৪. নিঃশর্ত ভালোবাসার ধারণা

অনেক শিশু বন্ধু, শিক্ষক বা অন্য সম্পর্ককে তুলনামূলকভাবে শর্তযুক্ত মনে করতে পারে, তবে মায়ের ভালোবাসা শর্তহীন। তাই সীমা পরীক্ষা করা বা আবেগ ঝেড়ে ফেলা - এসব আচরণ মায়ের সামনেই বেশি দেখা যায়।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্টাল গবেষণায় বলা হয়েছে, সিকিউর অ্যাটাচমেন্ট শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাহলে কী করবেন?

প্রথমত, এটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নেবেন না। শিশুর আচরণ অনেক সময় তার নিরাপদ বোধ করার বার্তা দেয়।

দ্বিতীয়ত, বাসায় ফেরার পর কিছু ট্রানজিশন টাইম দিন। যেমন, ৫-১০ মিনিট নীরব আলিঙ্গন, পানি খাওয়া বা হালকা গল্প।

তৃতীয়ত, সীমারেখা বজায় রাখুন। নিরাপদ আশ্রয় হওয়া মানে সব আচরণ মেনে নেওয়া নয়; বরং শান্তভাবে নিয়ম শেখানো।

শিশু যদি আপনার সামনেই সবচেয়ে বেশি আবেগ দেখায়, তার মানে আপনি তার নিরাপদ জায়গা। এটি চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু একই সঙ্গে সম্মানেরও। প্রশ্ন হলো - আপনি কি সেই নিরাপদ জায়গাটি ধরে রাখতে প্রস্তুত?

সূত্র: জন বোলবি’র অ্যাটাচমেন্ট থিওরি, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, সাইকোলজি টুডে

এএমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।