যারা ভোট দিয়েছেন কৃতজ্ঞ, যারা দেননি ধন্যবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৩ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে যারা নৌকায় ভোট দেননি তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবন থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে তিনি এ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করেছেন আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যারা আমাদের ভোট দেননি, আমি তাদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল, জোট ও প্রার্থীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুলভাবে বিজয়ী হওয়ায় আমি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।

এ সময় আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতায় আমরা এ বিশাল বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আমি দেশবাসী, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ ও দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সালাম জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, আমার তিন ভাই- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও ১০ বছরের শেখ রাসেল- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ নাসের, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিল এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এএসআই সিদ্দিকুর রহমানসহ সেই রাতের সব শহীদকে।

এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য যারা অকাতরে জীবন দিয়েছেন, সেই ভাষা শহীদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। স্মরণ করছি, ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ নেতাকর্মীকে। স্মরণ করছি ২০০১ সালের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস এবং পেট্রলবোমা হামলায় যারা নিহত হয়েছেন আমি তাদের স্মরণ করছি। আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

এ সময় আওয়ামী লীগের দুই বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী, সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ দশম সংসদের যেসব সদস্য ইন্তেকাল করেছেন, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন শেখ হাসিনা।

এইউএ/জেডএ/পিআর