কঠিন পরীক্ষায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী!

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:১৬ এএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
ফাইল ছবি

বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়ে কঠিন পরীক্ষা দিচ্ছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ। তাবলিগ জামাতের দুটি গ্রুপ সাদপন্থী ও সাদবিরোধী উভয়পক্ষ আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণে রাজি হলেও তিনদিন ইজতেমা চলাকালে কে কখন বয়ান করবেন, কোন ওয়াক্তে কে নামাজে ইমামতি করবেন ও আখেরি মোনাজাত কে পরিচালনা করবেন তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে সোমবার ধর্ম প্রতিমন্ত্রী একটি পক্ষের কয়েকজন নেতার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।

গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই তিনি নরমে-গরমে যুক্তি ও পাল্টাযুক্তি উত্থাপন করে দুপক্ষের বিরোধ মিটিয়ে সফলভাবে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন সম্পন্ন করতে রীতিমতো পরীক্ষা দিচ্ছেন। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলে মন্তব্য করলেও বিরোধ মেটাতে তার গলদঘর্ম হতে হচ্ছে বলে তার ঘনিষ্টরা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সাদপন্থী ও সাদবিরোধী মাওলানা জুবায়ের অনুসারী আলেমওলামারা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার আয়োজনে রাজি হন। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দুপক্ষের মধ্যে ফের মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।

গত রোববার ফের বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা, ইজতেমায় আগত বিদেশি মেহমানদের ভিসার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রস্ততিমূলক সভায় দুপক্ষকে নিয়ে আড়াই ঘণ্টারও বেশি বৈঠক চলে। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব, ডিএমপি কমিশনার, র‌্যাব মহাপরিচালক ও গাজীপুরের মেয়র উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুপক্ষ পূর্বনির্ধারিত ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারিতে ইজতেমার অংশগ্রহণে রাজি হয়েছে।

তিনি জানান, ইজতেমার ময়দান প্রস্তুত করার দায়িত্ব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, গাজীপুরের মেয়র, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে প্রদান করা হয়েছে। সামান্য কিছু বিষয়ে মতবিরোধ এখনও রয়েছে। ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে দুপক্ষের প্রবীণ আলেমওলামারা বসে সব ঠিক করবেন। বিকেলে বৈঠক শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুপক্ষের অংশগ্রহণে ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা হবেই হবে। এর সঙ্গে সরকারের ইমেজ জড়িত।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ কথা বললেও তার কক্ষের বাইরে সাদপন্থী মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, তারা পৃথকভাবে ইজতেমা করতে চান। তবে একসঙ্গে ইজতেমা অংশগ্রহণ করলেও তাদের কিছু শর্ত মানলে তবেই তারা রাজি হবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাদপন্থী গ্রুপের একজন নেতা জানান, তারা বিদেশি মেহমানদের তাদের পৃথক লেটার প্যাডে চিঠি দিয়ে দাওয়াত দিতে চান। কিন্তু মাওলানা জুবায়েরের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বিদেশি মেহমানদের চিঠি দিয়ে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। যা তারা মেনে নেবেন না। এছাড়া তিনদিনের ইজতেমা চলাকালে তাদের অনুসারী মুসল্লিদের নিরাপত্তা কীভাবে দেয়া হবে সে সম্পর্কে নিশ্চয়তা চান। নির্ধারিত তিনদিনের মধ্যেই তাদেরকে পৃথকভাবে ইবাদত বন্দেগির সুযোগ করে দিলে সবচেয়ে ভালো হয়- মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, দুপক্ষের অংশগ্রহণ ইজতেমা হবেই হবে। দুপক্ষের সমস্যার সমাধান করে সুষ্ঠুও সুন্দরভাবে ইজতেমার আয়োজন করা হবে। তবে কেউ সীমা অতিক্রম করলে ভুল করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এমইউ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :