মামলা ছাড়াই ২ লাখ টাকা ঋণ অবলোপনের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ অবলোপনের (রাইট অফ) বিষয়ে নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে মামলা ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতদিন মামলা ছাড়া সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ অবলোপন করার সুযোগ ছিল।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের কর্যরত সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলার বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান বাস্তবতা, আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা, আইনি কাঠামো যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ঋণ/বিনিয়োগ-এর অবলোপন বিষয়ে নতুন নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব ঋণ/বিনিয়োগ হিসাবের বকেয়া দীর্ঘদিন আদায় বন্ধ রয়েছে। যা নিকট-ভবিষ্যতে কোনোরূপ আদায়ের সম্ভাবনাও নেই এছাড়া তিন বছর মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত রয়েছে। এসব ঋণ/বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো অবলোপন করতে পারে।

এছাড়া মৃত ব্যক্তির নামে অথবা তার একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে গৃহীত ঋণ অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী মামলাযোগ্য না হলে মামলা দায়ের ছাড়াই অবলোপন করতে পারবে। তবে একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির উপার্জনক্ষম উত্তরসূরী রয়েছে কি-না তা বিবেচনায় নিতে হবে। এক্ষেত্রে ঋণ/বিনিয়োগ অবলোপনের অন্যান্য সকল নির্দেশনা অনুসরণীয় হবে।

অবলোপনযোগ্য ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে বন্ধকী সম্পত্তি (যদি থাকে) নিয়ম অনুসারে বিক্রয় করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকে নিশ্চয়তা প্রদানকারী ব্যক্তির কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায় করতে না পারলে ওই ঋণ অবলোপনের আওতায় আসবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, অবলোপনের জন্য নির্বাচিত ঋণ/বিনিয়োগ হিসাবসমূহের ক্ষেত্রে পূর্বে আইনগত ব্যবস্থা না হয়ে থাকলে অবলোপনের পূর্বে অবশ্যই অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে। তবে ক্ষুদ্র অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে মামলা করতে হলে মামলা খরচের পরিমাণ প্রায়শই পাওয়া ঋণের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এ কারণে নতুন নীতিমালায় অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর আওতায় অত্যাবশকীয়ভাবে মামলাযোগ্য না হলে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অবলোপন করা যাবে।

অবলোপনের আগে ঋণ হতে রক্ষিত স্থগিত সুদ বাদ দেয়ার পর অবশিষ্ট ঋণস্থিতির সমপরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষিত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে অবলোপনের জন্য চিহ্নিত প্রতিটি ঋণ/বিনিয়োগ হিসাবের বিপরীতে রক্ষিত প্রভিশন পর্যাপ্ত না হলে ব্যাংকের চলতি বছরের আয় খাত বিকলন করে অবশিষ্ট প্রভিশন সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ঋণ আংশিকভাবে অবলোপন করা যাবে না। এছাড়া ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া অবলোপন করা যাবে না। অবলোপন-পরবর্তী আদায় কার্যক্রম ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ২৮ (ক) ধারা অনুযায়ী অবলোপনের পরও সংশ্লিষ্ট ঋণ/বিনিয়োগ-এর উপর ব্যাংকের দাবি বহাল থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি অবলোপন-পরবর্তী সময়ে ওই অবলোপনকৃত ঋণ/বিনিয়োগ আদায়ের লক্ষ্যে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে প্রত্যেক ব্যাংকে একটি পৃথক ইউনিট গঠনের পাশাপাশি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ/বিনিয়োগ অবলোপন করা হলেও সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা তার ঋণের দায় সম্পূর্ণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত যথানিয়মে খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন। অবলোপনকৃত ঋণের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)-তে যথারীতি রিপোর্ট করতে হবে।

এসআই/এসএইচএস/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।