‘আই অ্যাম নেক্সট’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৯

স্কুল ইউনিফর্ম ও ব্যাগ কাঁধে হাঁটু গেড়ে বসে মাথা নিচু করে ইট দিয়ে কিশোর ছেলেটি লিখছিল- ‘আই অ্যাম নেক্সট’। ইংরেজি হরফে কমলা রঙের লেখাগুলো সূর্যের আলো লেগে ঝলমল করছিল।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সু-প্রভাত বাসের চাপায় নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরী। এ ঘটনার প্রতিবাদে দোষী চালকের বিচার দাবি করে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

বেলা ১টায় এ লেখা লিখে এরপর ঘাতকবাসের চাপায় নিহত হয়ে তালিকায় তার নামটাও যুক্ত হতে পারে- এমনটা বুঝাতে চেয়েছে সে। লেখাটি দেখে বুকের ভেতরটা অজানা আশঙ্কায় কেঁপে ওঠে। ধীরগতিতে এগিয়ে গিয়ে তার নাম-পরিচয় জানতে চাইলে সে জানায় তার নাম ওয়াসিফ। বিএফ শাহিন কলেজের ছাত্র ও বাসা মোহাম্মদপুরে।

‘আই অ্যাম নেক্সট’-লেখাটি কেন লিখেছে জানতে চাইলে ওয়াসিফ বলে, যেহারে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে তাতে সে আতঙ্কিত। সে জানায়, যখন তারা বাসস্ট্যান্ডে যায়, তখন বাসচালকরা তাদের স্টুডেন্ট দেখে গাড়িতে নিতে চায় না। তারা মনে করে স্টুডেন্ট উঠালেই হাফভাড়া দেবে। কিন্তু আমরা স্বাবলম্বী না হওয়ায় আমাদের হাফ ভাড়া নেয়া উচিত। সে বলে, স্টুডেন্ট দেখলেই তারা গাড়ি গায়ের ওপর তুলে দিতে চেষ্টা করে বা বাম পাশে এমনভাবে চাপিয়ে দেয় এতে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, ছোট ও বড় সবাই আহত এমনকি নিহত হচ্ছে।

ওয়াসিফ আরও বলে, ২০১৮ সালে র‌্যাডিসন হোটেলের সামনে স্কুল ছাত্রদের ওপর বাস তুলে দেয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তুললে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের অনেক মন্ত্রী আশ্বাস দেন। তার মতে, সেসব দাবির অনেকগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় গতকাল তাদেরই এক সহপাঠীকে বাসচাপায় মরতে হয়েছে।

শুধু ওয়াসিফ নামে ওই যুবকই যেকোনো সময় বাসচাপার আতঙ্কে নয়, তার মতো হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মনে আতঙ্ক এই ভেবে- ‘আই অ্যাম নেক্সট!’

গত মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রগতি সরণি এলাকায় সু-প্রভাত (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরী নিহত হন। পরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা আট দফা দাবি ঘোষণা করেন। বুধবার (২০ মার্চ) সকাল থেকেও রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যান।

পরে ২৮ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হয়। বুধবার বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিইউপির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহিদুজ্জামান।

এমইউ/এসআর/পিআর