‘এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের ত্রাণ তহবিলের কোনো অপব্যবহার করছে না’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৯

এনজিওরা রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে আনা ত্রাণ সাহায্যের প্রায় ৭৫ ভাগই নিজেদের স্বার্থে খরচ করেছে-আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কেবিনেট কমিটির চেয়ারপারসন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হকের বক্তব্য গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছে বিশ্ব এনজিও ফোরাম বাংলাদেশ।

গত ১৩ মার্চ গণমাধ্যমে মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের এ-সংক্রান্ত বক্তব্য প্রকাশিত হয়।

এতে বলা হয়, প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ছয় মাসে হোটেলের বিল বাবদ ব্যয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে পারডিয়েম, বাসস্থান এবং যাতায়াত খাতে বিশাল ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কোনো এনজিও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে মর্মেও অভিযোগ উঠেছে।

মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব এনজিও ফোরাম বাংলাদেশ বলেছে, মাননীয় মন্ত্রী এইসব অভিযোগ জনসমক্ষে নিয়ে আসার জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা মন্ত্রীর উদ্বেগের কারণ বুঝতে পারছি। কেননা কর্মসূচির পরিচালন ব্যয় যৌক্তিক এবং সীমিত থাকা বাঞ্ছনীয়। আমরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, বিভিন্ন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং দেশীয় এনজিও সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য কর্মসূচিতে সকলের মিশন এক হলেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, পরিচালন পদ্ধতি এবং বাজেট পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন।

‘আমরা মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আশ্বস্ত করছি যে, রোহিঙ্গা কর্মসূচিতে কর্মরত সকল আন্তর্জাতিক এনজিও আর্থিক নিয়ম-শৃঙ্খলা ও বিধি-বিধান সরকার অনুমোদিত পরিচালন মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিপালন করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সুনির্দিষ্ট অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতেই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তারিত আর্থিক বিবরণ এবং খাতওয়ারি বাজেট বিশ্লেষণ করেই সুনির্দিষ্ট প্রকল্প অনুমোদন করে।’

বিশ্ব এনজিও ফোরাম বলেছে, আমরা আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো বাংলাদেশ সরকারের সকল বিধি-বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালন করে বিভিন্ন প্রকারের পরিচালন ব্যয় যেমন-পারডিয়েম, বাসস্থান এবং যাতায়াত খরচ মিটিয়ে থাকি। আমরা প্রত্যেকে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত এবং পদ্ধতিগতভাবে এনজিও ব্যুরোর কাছে রিপোর্ট করে থাকি। আমাদের প্রত্যেকের কর্মসূচি স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং আমাদের আর্থিক লেনদেন তালিকাভুক্ত অডিট ফার্ম দ্বারা অডিট করা হয়।

বিশ্ব এনজিও ফোরামের ভাষ্য, বাংলাদেশ আইএনজিও ফোরাম মাননীয় মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আশ্বস্ত করছে যে আন্তর্জাতিক এনজিওরা এ সকল অভিযোগের পাত্র হতে পারে না। আমরা এই জাতীয় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেকোনো তদন্তে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থেকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করার জন্য নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এ ছাড়া আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানাতে চাই যে, স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের কর্মসূচি এবং পরিচালন সম্পর্কে জননিরীক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করব।

জেপি/এসআর/জেআইএম