কুড়িল-রামপুরা-গুলিস্তান রুটে দুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২১ এএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৯

রাজধানীর কুড়িল-বাড্ডা-রামপুরা-গুলিস্তান রুটটি অন্যতম একটি ব্যস্ত সড়ক। সারাদিনে এ রুটে নানা প্রয়োজনে চলাচল করেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু কয়েকদিন ধরে এ সড়কে গণপরিবহন সংকটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

মূলত এ রুটে চলাচল করত সুপ্রভাত, ভেক্টর ও বন্ধু পরিবহন নামের গণপরিবহনগুলো। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর অভিযানের ফলে আগেই বন্ধ হয়ে গেছে বন্ধু পরিবহন। গত ১৯ মার্চ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রগতি সরণী এলাকায় সুপ্রভাত (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হন। এরপর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বন্ধ বাতিল সুপ্রভাত বাসের রুট পরমিট। ফলে সুপ্রভাত পরিবহনের ১৬৩টি বাসই চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

bus-

এদিকে ভেক্টর বাসের সংখ্যা আগে থেকেই কম ছিল, সড়ক দুর্ঘটনার পর সেই বাসও তেমন চলাচল করছে না। ফলে গণপরিবহন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এ রুটি চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।

মানুষের ভোগান্তি লাঘবে রাজধানীর এয়ারপোর্ট, কুড়িল, রামপুরা, গুলিস্তান রুটে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিসি) ৪টি ডাবল ডেকার বাসের উদ্বোধন করেন। কিন্তু বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় এ রুটে চলাচলকারী মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

bus-

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা থেকে গুলিস্তান যাওয়ার জন্য বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন শহিদুল ইসলাম নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু দিন ধরে কুড়িল-বাড্ডা-রামপুরা হয়ে গুলিস্তান রুটে কোনো বাস চলাচল করছে না। যে কারণে মানুষের খুবই ভোগান্তি হচ্ছে। বাসচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সুপ্রভাত বাসসহ অন্যান্য বাস বন্ধ হয়ে গেছে। আমরাও চাই এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। শাস্তি হিসেবে তাদের বাস বন্ধ করে দেয়াই উচিত। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের জন্য বিকল্প বাস নামানোর উদ্যোগ গ্রহণ করাও উচিত ছিল। অথচ এমন কোনো ব্যবস্থা না করায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।’

রামপুরা থেকে গুলিস্তানগামী আরেক যাত্রী বলেন, ‘সারাদিনে এ রুটে লাখ লাখ মানুষ চলাচল করে কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ করেই এ রুটে গণপরিবহন না থাকায় সাধারণ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কাজে বের হয়ে। রামপুরা ব্রিজ থেকে গুলিস্তান যেতে প্রথমে আমাকে যেকোনো একটি বাসে ঠাসাঠাসি করে উঠে মালিবাগ রেলগেট পর্যন্ত যেতে হয়। এরপর হেঁটে মালিবাগ মোড় যাওয়ার পর অনেক কষ্টে ভিন্ন রুটের একটি বাসে উঠে গুলিস্তান যেতে হয়। কেউ কেউ রিকশা বা রাইড শেয়ারিংয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করে। তাই সংশ্লিষ্টদের উচিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত বিকল্প গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা।’

bus-

তিনি আরও বলেন, ‘এ রুটে লাখ লাখ মানুষের চলাচল কিন্তু বিআরটিসি মাত্র চারটি বাস চালু করা হয়েছে। যা দিয়ে সমস্যা সমাধান কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। তাই অতি দ্রুত আরও বাস নামিয়ে জন ভোগান্তি নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।’

এ রুটে চারটি বিআরটিসি বাস উদ্বোধনকালে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘এ চারটি বাস এয়ারপোর্ট থেকে কুড়িল বিশ্বরোড-বাড্ডা-রামপুরা- মালিবাগ হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত চলাচল করবে। আর জনসাধারণের ভোগান্তি নিরসনে খুব শিগগিরই বিআরটিসি আরও ২০টি বাস যুক্ত হবে এ রুটে।’

bus-

জানা গেছে, যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবরার চৌধুরীকে চাপা দেয়ার পর বন্ধ হওয়া সুপ্রভাত পরিবহনের ১৬৩টি বাসের মধ্যে ১৪৫টিরই সড়কে চলার মতো সনদ ছিল না। সুপ্রভাত পরিবহনের ১৬৩টি এবং জাবালে নূর পরিবহনের ২৯টি বাসের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গঠিত কমিটি।

বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রভাত পরিবহনের ২৯টি বাস চলাচল করছিল মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ নিয়ে। ১৪টি বাসের ট্যাক্স টোকেন ও দুটি বাসের চলাচলের বৈধতা ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। এ ছাড়া সুপ্রভাতের ১০৪টি বাসের লাইসেন্সের শ্রেণি সঠিক পাওয়া যায়নি, আর ৩২টির লাইসেন্স বিআরটিএতে দাখিল করা হয়নি।

এএস/এনডিএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :