‘অবৈধ ভবন নিয়ে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সব সহায়তা দেব’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৭ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৯

অবৈধ ভবন মালিকদের করা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

নিয়ম না মেনে তৈরি করা অসংখ্য ভবন নিয়ে মামলা চলমান থাকায় রাজউক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমার সঙ্গে গণপূর্তমন্ত্রী মহোদয়ের কথা হয়েছে। তাকে আমি বলেছি, যথনই আমার প্রসিকিউশন টিম, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সাহায্য লাগবে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য আমরা সব সহায়তা তাদের দেব।’

মামলা জট কমানোর উদ্যোগ গত মেয়াদে ফলপ্রসূ হয়নি। এবার কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘ব্যাপারটা হচ্ছে, জনগণের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হবে। আমরা এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) করি, সেটা জনগণকে গ্রহণ করতে হবে। এখন যেটা করা হচ্ছে, ফৌজদারি বিষয়ে যেসব মামলা আপসযোগ্য সেগুলো...আমি তো আদালতকে বলতে পারি না। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি একটা প্র্যাকটিস ডিরেকশনের মাধ্যমে পাঠাবেন (আপসযোগ্য মামলা), আমি প্রসিকিউশনকে বলেছি, দেখেন কোর্ট যদি বলে দেয় এটা আপসযোগ্য আপনারা আপস করে আসেন। কোর্টে এসে আমাদের বলেন এতদিনের মধ্যে আপস করেছেন।’

‘এ রকম একটি অনুশাসন যদি কোর্ট দেন তবে জনগণের সাহস হয় সেটার উপর আস্থা রাখা। আপনারা কিছুদিনের মধ্যে দেখবেন কোর্ট আপসযোগ্য মামলাগুলোতে এমন অনুশাসন দিচ্ছেন, এ অনুশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা আর আদালতে আসছে না। বাইরেই এটার নিষ্পত্তি হচ্ছে এবং কোর্টকে একটা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এ ব্যবস্থা আপনারা শিগগিরই দেখবেন,’- বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘আর দেওয়ানি মামলার ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছি- আগে সিভিল প্রসিডিউর কোর্ট ছিল, সেই কোর্টের অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। আজকের বাস্তবতায় সেই ধাপগুলো আমার মনে হয় কিছুটা কমিয়ে আনা যায়, উই আর ওয়ার্কিং অন দ্যাট।’

ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতীয় হাইকমিশনার দায়িত্ব নেয়ার পর তার সঙ্গে এটাই প্রথম সাক্ষাৎ। আমরা যেসব বিষয়ে আলোচনা করেছি তা হলো আইনের ক্ষেত্রে, বিচারবিভাগের ক্ষেত্রে আমাদের দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা। গুজরাটের ভূপালে আমাদের জুডিশিয়াল অফিসারদের ট্রেনিং নেয়ার জন্য একটি সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই অগ্রিমেন্ট অনুযায়ী আমাদের অফিসাররা সেখানে ট্রেনিং নিয়ে থাকেন। সেটার ব্যাপারে আলাপ হলো- এই প্রশিক্ষণের ব্যাপারে আরও ক্ষেত্র বাড়ানো যায় কি না, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

‘এখন আমরা একটা সিদ্ধান্তে এসেছি যে লিগ্যাল ড্রাফটিংয়ের বিষয়ে ট্রেনিংয়ের জন্য আমরা কিছু অফিসার ভারতে পাঠাব। ওখানে খুব উন্নতমানের একটা ড্রাফটিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আছে। কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সেখানে পাঠাব।’

আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্ত, দৃঢ় ও বিস্তৃত হয়- সেই সহযোগিতার দ্বারগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

আরএমএম/জেডএ/আরআইপি