৮ সিটি কর্পোরেশনে দুদকের অভিযান

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৩৯ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০১৯

নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ, নবায়ন, জন্মনিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দেশের আট সিটি কর্পোরেশন অফিসে একযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬) দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রেড লাইসেন্স সেবা প্রদানে হয়রানির অভিযোগ আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন বুধবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা দক্ষিণ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনে একযোগে অভিযান চালায়।

দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের তত্ত্বাবধানে দুদক প্রধান কার্যালয়, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা এবং রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অভিযানকালে দেখা যায়, রাজস্ব বিভাগের কর অঞ্চল-১ এর অফিসসহায়ক মোহাম্মদ আলী গ্রাহকের কাছে ট্রেড লাইসেন্সের নির্ধারিত ফি সাড়ে চার হাজার টাকার পরিবর্তে ১৫ হাজার দাবি করে। দুদক টিম তাকে হাতেনাতে ধরে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে সোপর্দ করে। পরে অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া অভিযানকালে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দুদক টিম। এ সময় ট্রেড লাইসেন্স প্রদানে বহিরাগত দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে যারা নগর ভবনের পেছনের গেট সংলগ্ন কয়েকটি ফটোকপির দোকানকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে টিমকে জানান সেবাপ্রত্যাশীরা। পরে দালাল নির্মূলে দুদক টিমের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বহিরাগত কিছু লোককে চেয়ার-টেবিল নিয়ে অফিসে বসে থাকতে দেখা যায়- যারা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এ ব্যাপারে রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং ব্যাপারটি তার জানা নেই বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দুদক টিম তাকে এ ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক একটি রিপোর্ট দিতে বলেছে।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে অভিযানকালে দেখা যায়, ট্রেড লাইসেন্স ফি বাবদ গৃহীত অর্থের কোনো রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা সংগৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার কোনো রেকর্ড টিমকে তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে ব্যর্থ হন। তারা এ-সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র একত্র করে দুদক অফিসে প্রেরণ করবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন অভিযানকালে বেশকিছু অসংগতি দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের কাছে ধরা পড়ে। অভিযানকালে দুদক টিম ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি ফির অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ পান।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনসমূহ কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।

এমইউ/এএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]