হোমিওপ্যাথিক ও ভেষজ ওষুধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৯
ফাইল ছবি

শুধু অ্যালোপ্যাথিক নয় হোমিওপ্যাথিক ও ভেষজ ওষুধের ওপর গুরুত্ব দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে হোমিওপ্যাথিক, ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা হয়। এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর চাহিদা বাংলাদেশে রয়েছে। এ ধরনের চিকিৎসার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সবার সুস্থতা নিশ্চিতকল্পে ‘স্বাস্থ্যসেবা অধিকার-শেখ হাসিনার অঙ্গীকার’ এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ থেকে ‘জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় জিপ গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরি করছে। এই ওষুধ বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। কিছু ভেষজ ওষুধ রয়েছে, সেগুলোর প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যের সেবার জন্য এখন মায়েরা আর কারও মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন না । কারণ আমরা তাদের মাতৃত্বকালীন ভাতা দিচ্ছি এবং চিকিৎসার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যবস্থা করে দিয়েছি। একা একাই যে কোনো মা সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসক-নার্স পর্যাপ্ত পরিমাণে নিয়োগ দিয়েছি, চিকিৎসকের অভাব পূরণের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। গ্রামীণ চিকিৎসকদের জন্য আজ জিপ গাড়ি উপহার দিয়েছি। যখন সেবা দিতে যাবে তখন তারা এই জিপ গাড়ি নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, সব সময় যে এই জিপ গাড়ি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে এমন নয়। গ্রামের অলিগলি ছোট রাস্তায় যেতে হলে এই গাড়ি সব জায়গায় যাবে না।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এরকম পরিস্থিতি হলে অনেকে সাইকেলেও যেতে পারেন এবং চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন। তা আপনার শরীরের জন্য ভালো, আপনার শরীর ভালো থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য তথ্য বাতায়ন রয়েছে। সেখানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। প্রত্যেক উপজেলায় ওয়েব ক্যামেরা দেয়া হয়েছে। ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে বিশেষায়িত চিকিৎসকদের সেবা নেয়ার সুযোগ রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে । বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা আরও বাড়ানো যাবে। আমরা শুধু রাজধানীতে নয়, পুরো বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। প্রতিবন্ধী ভাতা দিচ্ছি আগামীতে এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে, যাতে তারা ও সামর্থ্যবান তারাও যেন সেবা পায়। অটিজম এবং প্রতিবন্ধীর সম্পর্কে আরও সচেতনতার গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের শুধু স্বাধীনতাই দেননি তিনি আমাদের একটি সংবিধান দিয়েছেন, সেই সংবিধানে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন। মাত্র নয় মাসে তিনি আমাদের একটি সংবিধান দিয়েছেন। এই সংবিধানে মানুষের যে মৌলিক অধিকারগুলো সেই অধিকারগুলোর কথা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করার কথা । তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন সেই সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত যেন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায় তার পদক্ষেপ ও বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করেছিলেন।

চিকিৎসাসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও নার্সদের আরও যত্নবান হতে হবে। বিশেষায়িত নার্স তৈরি করতে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ইতোমধ্যে দেশের বাইরে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। আমরা চাই দেশেও এ ব্যবস্থা করা হোক।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সারাদেশের হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধিসহ নিয়োগ দেয়া হয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সাপোর্টিং স্টাফ। মেডিকেল শিক্ষার প্রসারে নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করেছি। জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি পালনে আমরা সক্ষম হয়েছি। ইনশাআল্লাহ এসডিজি পালনেও সক্ষম হবো।

এফএইচএস/জেএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :