যৌন হয়রানি : কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল পরিচালকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৫ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৯

রাজধানীর উত্তরায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিরুল হাসানের বিরুদ্ধে নারী নার্সিং অফিসারের যৌন হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মানবাধিকার কমিশন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহানা সাঈদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ ফায়জুল কবিরকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- কমিশনের উপ-পরিচালক কাজী মো. সালাহ উদ্দিন ও এম রবিউল ইসলাম। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান আল মাহমুদ ফায়জুল কবির বলেন, আমরা বেলা ২টায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে যাবো। যৌন হয়রানির অভিযোগকারীর জবানবন্দি নেবো। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী যারা ছিলেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করব।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় যৌন হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওই ভুক্তভোগী নার্স।

উত্তরা ৬নং সেক্টরের ঈশা খাঁ এভিনিউতে অবস্থিত হাসপাতালটির পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগপত্র ও জিডিতে ভুক্তভোগী নারী নার্সিং অফিসার জানান, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন ডা. আমিরুল হাসান। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে তাকে রুমে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। দেশের বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, ঢাকায় বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। স্বামীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। তার কথামতো না চললে চাকরি বাঁচাতে পারবেন না বলেও হুমকি-ধামকি দিতেন।

ওই নারী অভিযোগ করেন, সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে পরিচালক ভুক্তভোগী নারীকে তার রুমে ডেকে নেন এবং যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। তখন ওই নারী জোর প্রতিবাদ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বরাবর লিখিত অভিযোগে ওই নার্স উল্লেখ করেন, দুই সন্তানের কথা ভেবে আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেও পারিনি। যৌন হয়রানির বিষয়টি হাসপাতালের সেনা তত্ত্বাবধায়ককে অবহিত করি। কিন্তু বিষয়টি জেনে যাবার পর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিরুল হাসান।

যৌন হয়রানি প্রাণনাশের হুমকি বিয়য়ে সুবিচার প্রত্যাশা করেন স্বাস্থ্য অধিদফতর মহাপরিচালক বরাবর লেখা অভিযোগে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

জেইউ/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :