গুলিস্তানে পুলিশের ওপর ককটেল হামলায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০০ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

রাজধানীর গুলিস্তানে ককটেল বিস্ফোরণে দুই ট্রাফিক ও এক কমিউনিটি পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) পল্টন থানায় এ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমান।

পল্টন থানার ডিউটি অফিসার সুলতানা আক্তার জানান, পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৬ ধারায় এ মামলা করেছেন। মামলা নং ৫৩। মামলায় আসামি অজ্ঞাত।

মামলার বাদী এসআই ওবায়দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি ট্রাফিক কনস্টেবল নজরুল ইসলাম (৩৭) ও লিটন (৪০) এবং কমিউনিটি পুলিশ সদস্য মো. আশিক (২৬) আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে পুলিশ সদস্যদের পুলিশ হাসপাতালে ও অপরজনকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। এখন সবাই ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি বলেন, মামলায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই ঘটনায় পল্টন থানার পাশাপাশি তদন্তে কাজ করছে ডিবি পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সিআইডি। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। তদন্তের পাশাপাশি অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় গুলিস্তানে ককটেল বিস্ফোরণের পাঁচ ঘণ্টা পর এক টুইট বার্তায় সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানায়, গুলিস্তানে তিন পুলিশ সদস্যের ওপর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্যরা ককটেল নিক্ষেপ করেছে। একই বার্তা তাদের ওয়েবসাইটেও প্রচার করা হয়।

মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ককটেল নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি সাইট ইন্টেলিজেন্সের। তবে উগ্রবাদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো মহল উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এ কাজ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আইএস যে ক্লেইম করেছে তা তাদেরই বা অন্য কেউ প্রতারণামূলক এ ধরনের পোস্ট দিয়েছে কিনা তা কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অ্যান্টি টেররিজম বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখছেন। বিস্ফোরিত ককটেলটি সাধারণ থেকে ভিন্ন ছিল। কাউন্টার টেররিজম বিস্ফোরণ ও আহতের ধরনসহ প্রয়োজনীয় এভিডেন্স সংগ্রহ করছে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক যে উগ্রবাদের প্রভাব বিশ্বে রয়েছে, বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। সংঘবদ্ধ বা বড় ধরনের নাশকতা করার ক্ষমতা তাদের নেই। ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান হামলার পর তাদের (জঙ্গি) বিধ্বস্ত করা হয়েছে। কখনো কখনো তারা বিচ্ছিন্নভাবে এ ধরনের ঘটনা করার অপচেষ্টা করছে, সেগুলো আমরা নজরদারিতে রাখছি।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য যে কোনো নৈরাজ্য উগ্রবাদ দমানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ঘটনা আদৌ জঙ্গি সংশ্লিষ্ট নাকি সাধারণ অপরাধীরা এটি করেছে তা খতিয়ে দেখছি। এ ঘটনার পর ট্রাফিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর কাজ চলছে।

জেইউ/এএইচ/পিআর