এবারের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৯ পিএম, ০৯ মে ২০১৯

অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার সড়কের অবস্থা ভালো দাবি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।’

ঈদে সড়ক-মহাসড়কে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে করণীয় নির্ধারণে বৃহস্পতিবার (৯ মে) সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সচিব বলেন, ‘আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেছি। গণশুনানি করেছি। রাস্তাঘাট সম্পর্কে অন্যান্য বছরের মতো বড় রকমের সমস্যার কথা শুনতে পাইনি। আমাদের ধরণা ও বিশ্বাস, এবারের রাস্তাঘাটের অবস্থা অন্যান্য বছরের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ভালো। সেদিক থেকে আমরা দাবি করতে পারি মহাসড়কে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কিছুদিনের মধ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসবেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগেভাগেই একটি মিটিং করেছি। তিনি আসার পর আরেকটি মিটিং হয়তো তিনি করতে পারেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু কিছু বিষয় আমাদের গোচরে এসেছে, আমরা সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। মিটিংয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দশটি জোনের প্রধান প্রকৌশলীরাও ছিলেন। ঢাকা এবং ঢাকার আশেপাশের নির্বাহী প্রকৌশলীরাও ছিলেন। রাস্তা-ঘাটের বিষয়ে যাতে কোনো অভিযোগ না আসে, অভিযোগ আসলে যাতে যথাসময়ে ব্যবস্থা নিতে পারি সেই বিষয়ে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।’

অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাস টার্মিনালে ভিজিলেন্স টিম থাকবে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘ভাড়ার বিষয়ে আমরা যে অভিযোগ শুনে থাকি সেই বিষয়ে তারা (ভিজিলেন্স টিম) ব্যবস্থা নেবে। ভাসমান বাজারের কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। সেটা যাতে না ঘটে, সেজন্য আমরা স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেবো। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি মহাসড়কে দুর্ঘটনা সৃষ্টি করে থাকে। এই ধরনের গাড়ি যাতে চলাচল না করতে পারে সেজন্য আমরা পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অনুরোধ করেছি। হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে আমরা অনুরোধ করেছি এ বিষয়ে যেন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়, ঈদের আগে যেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।’

মহাসড়কে অবৈধ যান চালাচল না করে সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহন সচিব।

তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় যাত্রী পরিবহনে বিআরটিসির বাড়তি সাপোর্ট দিতে হয়। বিআরটিসির স্পেশাল অ্যারেঞ্জমেন্ট থাকবে, বিআরটিসির আরও কিছু নতুন গাড়ি যুক্ত হতে যাচ্ছে। ৬০০ বাস আসছে ইতোমধে ১৫৮টি আমরা রিসিভ করেছি। রমজানের মধ্যে আরও গাড়ি আসবে। এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি করে সার্ভিসটা দিতে পারব।’

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে তিনদিন সড়ক-মহাসড়কে ট্রাক, লরি, কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকলেও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, পঁচনশীল দ্রব্য, ওষুধ এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এর আওতামুক্ত থাকবে।’

ঈদের আগের দিন যাত্রীদের চাপ নিয়ন্ত্রণে গার্মেন্টসগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেয়ার জন্য গার্মেন্টস মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবারও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বিআরটিএ-তে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। ঈদের আগে ছয়দিন আগে ও ঈদের পরে চারদিন পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে।’

সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, বিআরটিএর চেয়াম্যান মো. মশিয়ার রহমান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুলিশ ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, হাইওয়ে পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/জেডএ/এমবিআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :