পূর্বাচল সিটিতে ব্যবহৃত হবে ভূ-উপরিস্থ পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ২২ মে ২০১৯

পূর্বাচল সিটিতে সার্ফেস ওয়াটার তথা ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ করতে চায় সরকার। এজন্য এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২২ মে) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের পূর্বাচল সিটি হচ্ছে। এ সিটিতে মেঘনা নদী থেকে পানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যে পর্যন্ত মেঘনা নদী থেকে পানি না আসবে সে পর্যন্ত আমরা সার্ফেস ওয়াটার তথা মাটির উপরিভাগের পানির ব্যবস্থা করব। কারণ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করলে অনেক সমস্যা হতে পারে। তাই এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এ প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ চলছে। পূর্বাচল হবে দেশের প্রথম স্মার্ট সিটি। এখানে আবাসিক প্লট ছাড়াও ২৫০ একর জমিতে সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০ একর জমিতে একটি আইকনিক টাওয়ার নির্মাণ করা হবে।

সরকার জনগণের আবাসন সমস্যার সমাধানে রাজউকের আবাসিক এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প গ্রহণ করেছে। উত্তরা, পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় মোট প্রায় এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউকের নিজস্ব অর্থে ১৭৯টি ভবনে মোট ১৫ হাজার ৩৬টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৭৯টি ভবনে ছয় হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ফ্ল্যাট অত্যন্ত কম মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি বর্গফুটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে ৪৫০০ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়াও ফ্ল্যাট কেনার জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করছে। সাড়ে ৮ শতাংশ সুদে এ ঋণ ২৫ বছরে পরিশোধ করা যাবে। এখানে ৪৫ শতাংশ জায়গা সবুজ বেষ্টনী, স্কুল, খেলার মাঠ, মসজিদ, শপিং মল ইত্যাদি রাখা হচ্ছে। বেসমেন্ট ও নিচতলায় গড়ি পার্কিং ও দৃষ্টিনন্দন লেক থাকবে এ প্রকল্প এলাকায়। এখানে অবশিষ্ট ১০০টি ভবন নির্মাণ করবে মালয়েশিয়া সরকার।

এমইউএইচ/এমবিআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :