৯০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই মিলছে তামাকপণ্য

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০২:১৫ পিএম, ২৬ মে ২০১৯

তামাক নিয়ন্ত্রণে আছে আইন। বিক্রি ও প্রদর্শনীতেও আছে নানা বিধি-নিষেধ। কেবল প্রাপ্ত-বয়স্কদের কাছে বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও শিশুদের হাতের নাগালেই মিলছে তামাকপণ্য ৷ কারণ ৯০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠের পাশে গড়ে উঠছে তামাকপণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যেই গড়ে ছয়টি তামাকপণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে ৷ এই আশঙ্কাজনক চিত্রটি চট্টগ্রাম বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর।

বেসরকারি সংস্থা ইপসার এক জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র। রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ইপসার উপ-পরিচালক নাছিম বানু জরিপের এ ফলাফল তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে স্কুল ও খেলার মাঠের আশেপাশে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন, বিক্রয়, পণ্য প্রদর্শন ও প্রণোদনামূলক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে 'বিগ টোব্যাকো টিনি টার্গেট: বাংলাদেশ' শিরোনামে চট্টগ্রাম বিভাগের তিনটি জেলায় এ জরিপ চালানো হয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটি জেলার ৪০টি নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠে এ জরিপ কার্যক্রম চালানো হয়। এতে ১০০ মিটারের মধ্যে সকল তামাকপণ্যের বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রস সেকশনাল পর্যবেক্ষণ করা হয়।

জরিপের পর্যবেক্ষণকৃত ফলাফলে উল্লেখ করা হয়, খেলার মাঠে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তামাকপণ্যের বিক্রয়কেন্দ্রের সহজলভ্যতার পাশাপাশি তামাকপণ্যের প্রদর্শনও করা হচ্ছে। ৭৭ শতাংশ তামাক বিক্রয়কেন্দ্রে শিশুদের চোখের সমান্তরালে (আনুমানিক ১ মিটার) তামাকপণ্যের প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি ৩৩ শতাংশ তামাক বিক্রয়কেন্দ্রে চকলেট, মিষ্টি বা খেলনার পাশে প্রদর্শিত হচ্ছে তামাকপণ্য।

তামাকের বিজ্ঞাপনের বিষয়ে জরিপের ফলাফলে বলা হয়, ৯৬ শতাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে। ৮৪ শতাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের স্টিকার, ডেমো প্যাকেট, ফেস্টুন, ফ্লায়ার প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। ১৪ শতাংশ বিজ্ঞাপন হচ্ছে পোস্টারে, এক শতাংশ হচ্ছে ছাতায় তামাক কোম্পানির ব্রান্ডিং এবং এক শতাংশ বিলবোর্ডের মাধ্যমে।

২০১৭ সালের ৩-৩০ ডিসেম্বর এ জরিপ পরিচালনা করার কথা জানিয়ে ইপসার উপ-পরিচালক নাছিম বানু বলেন, জরিপে দেখা গেছে- ৯৮ শতাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে এক শলাকা সিগারেট বিক্রি করছে। ফলে শিশুরা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ধূমপান করছে। এছাড়া তামাকপণ্য বিক্রিতে প্রণোদনামূলক কার্যক্রম, উপহার ও মূল্যছাড় দেয়াসহ নানা বিষয় ধরা পড়েছে এ জরিপে।

জরিপের সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে হবে। শিশুদের কাছে এক শলাকা সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে। তামাক বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনতে হবে।

আবদুল্লাহ রাকীব/বিএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :