সরকারি ওষুধ ডোবায় : আবাসিক চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ৩০ মে ২০১৯

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের ডোবায় ভাসমান অবস্থায় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র গজ ব্যান্ডেজ ক্যানোলা উদ্ধারের ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (আরপি) ডা. মো. আক্তারুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

গতকাল (বুধবার ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের (পার্সোনাল ২) অধিশাখা থেকে জারি করা স্বাস্থ্য সচিব মো. আসাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের ডোবায় ভাসমান অবস্থায় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র গজ ব্যান্ডেজ ক্যানোলা ইত্যাদি পাওয়া যায়। তার ওপর অর্পিত দায়িত্বে অবহেলার কারণে সরকারি সম্পদের অপচয় হয়েছে। এ কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমতাবস্থায় সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা বিধি মোতাবেক ডা. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান আবাসিক সার্জনকে (আরপি) ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

সাময়িক বরখাস্তকালীন প্রচলিত বিধি মোতাবেক উনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্ত হবেন এ আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হলো এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

satkhira-1

এর আগে এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রধান তত্ত্বাবধায়ককে বদলি ও অপর তিন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হাওয়া কর্মীরা হলেন- হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলাম, স্টোর কিপার আহসান হাবিব ও ফার্মাসিস্ট মো. গোলাম হোসেন। তাদের গত মঙ্গলবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ শাহজাহান আলীকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল চত্বরের একটি ডোবায় নানা ধরনের ওষুধ ভাসতে দেখা যায়। ঘটনাটি ওই দিন বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন কর্মচারী কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। এরপর এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ শাহজাহান আলী রোববার ইউরোলজি বিভাগের মো. রুহুল কুদ্দুসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেন। এতে আরও থাকেন অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ প্রবীর কুমার দাস ও মেডিসিন বিভাগের আক্তারুজ্জামান। ওই কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়।

অন্যদিকে এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। ওই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এমইউ/এনডিএস/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :