জিয়াউর রহমান ভয়ঙ্কর হত্যাকারী : সংসদে শাজাহান খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ২৬ জুন ২০১৯

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ভয়ঙ্কর হত্যাকারী আখ্যায়িত করে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, যদি প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর হত্যাকারী কে? জবাব জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসে তিনি কয়েক হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেন। আমার কাছে তার এসব অপকর্মের অনেক তথ্য আছে।

বুধবার বিকেলে সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৮১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও জাসদের ১ হাজার ৫০০ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে ৬২ হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮০ সালে রাজশাহীতে ৫০ জন জেলবন্দিকে গুলি করে হত্যা করেছেন। জিয়ার শাসন আমলে অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম ও গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়াও ১৯৯১ সালে শ্রমিক আন্দোলন দমন করার নামে ১৭ জন শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছিলেন এবং সারের জন্য আন্দোলন করায় ১৮ জন কৃষককে হত্যা করেছিলেন। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে ও ক্ষমতার বাইরে থাকতেও মানুষ হত্যা করেছেন। আগুন, পেট্রলবোমার কথা মানুষ ভুলে যায়নি।’ এ সময় তিনি সাতক্ষীরা জেলায় জিয়ার নির্দেশে একটি হত্যার ঘটনার পত্রিকার কাটিং স্পিকারের মাধ্যমে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদকে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ নিয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘যার (খালেদা জিয়া) ছয়-ছয়টি জন্মতারিখ, সে কীভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে?’ এ বিষয়ে তিনি সাংসদ হারুনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

বাজেটে পরিবহন খাতে আরোপিত কর হ্রাস করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ খাতে ভ্যাট ট্যাক্স বৃদ্ধি করলে মূলত সেটা জনগণের ওপর বর্তাবে। বর্তমানে ঋণের সুদ হারের কারণে উৎপাদনশীল কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। রেগুলেটরি ডিউটি ৩ থেকে ৫ শতাংশ করা হলে ভোক্তা পর্যায়ে চাপ পড়বে। টায়ারসহ যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি পাবে।’

সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ খাতে টায়ারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এখনো এদেশে তৈরি হয় না, আমাদের আমদানি করতে হয়। তাই এসব জিনিসের ওপর শুল্ক না কমালে পরিবহন শিল্প বাধাগ্রস্ত হবে।’ এ সময় তিনি পরিবহন খাতে ৩ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখার আহ্বান জানান।

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করার প্রস্তাব করে শাজাহান খান বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে অনেক কাজ করছে। বর্তমানে ১০ হাজার করে ভাতা দেয়া হচ্ছে। এই ভাতা ২০ হাজার করা দরকার।’ নতুন আরেকটি বোনাস চালুরও প্রস্তাব করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘একটি সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে সেটা হচ্ছে বাড়িভাড়া। কোনো নিয়মনীতি নেই। বছর বছর বাড়িভাড়া বাড়ছে। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেলেও বাড়িভাড়া কয়েক গুণ বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকরা বর্ধিত মজুরির সুবিধা নিতে পারছেন না।’

এ সময় তিনি বাড়িভাড়া নীতি অনুসরণ করা ও মনিটরিং করার জন্য সিটি কর্পোরেশন ও নির্দিষ্ট বিভাগকে আহ্বান জানান।

এইচএস/এসআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :