অফিস পাড়ায় বাহারি ইফতার, সাধ নিচ্ছেন সব ধরনের ক্রেতা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পবিত্র রমজান শুরু হতেই রাজধানীর মতিঝিল ব্যাংকপাড়া, দিলকুশা এবং আশপাশের এলাকায় জমে উঠেছে বাহারি ইফতারের বাজার। নামিদামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফুটপাতের অস্থায়ী স্টল-সব জায়গায়ই ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক ইফতার সামগ্রীর সমাহার দেখা যাচ্ছে। অফিসপাড়া হওয়ায় বিকেল গড়াতেই রোজাদারদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে হীরাঝিল, ক্যাফে মাওলা, ঝালমুখসহ বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতের দোকানে সাজানো হয় মাংসের আইটেমসহ ছোলা বুট, পেঁয়াজু, বেগুনি, কাবাব এবং শাহী জিলাপিসহ নানা মুখরোচক খাবার। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা বাহারি সাজে ইফতারের পসরা তুলে ধরছেন।

ফুটপাত থেকে রেস্তোরাঁ, সবখানেই ক্রেতাদের ভিড়
দামি রেস্তোরাঁর পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানেও স্বল্প মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জনপ্রিয় ইফতারসামগ্রী। ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি, পেঁয়াজু ও বেগুনি ৫ থেকে ১০ টাকা পিস, জিলাপি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি এবং বিভিন্ন কাবাব ২০ থেকে ৪০ টাকায়। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তসহ সব ধরনের ক্রেতারাই সাধ্যের মধ্যে ইফতার কিনতে পারছেন।

jagonews24

শুধু ছোলা, পেঁয়াজু বা জিলাপি নয় হালিম, ডিম চপ, চিকেন ফ্রাই, বুন্দিয়া এবং বিভিন্ন ধরনের কাবাবেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনেকেই অফিস শেষ করে সরাসরি ইফতার কিনতে এসব দোকানে ভিড় করছেন।

নামিদামি রেস্তোরাঁয় বাহারি আয়োজন
নামিদামি রেস্তোরাঁগুলোতেও রয়েছে ইফতারের বিশাল আয়োজন। এসব রেস্তোরাঁয় খাসির বড় লেগ রোস্ট ৯০০ টাকা, ছোট লেগ রোস্ট ৪৫০ টাকা, আস্ত চিকেন রোস্ট ৬০০ টাকা, কোয়েল রোস্ট ১৫০ টাকা, বিফ কলিজা ১৫০০ টাকা কেজি, বিফ লাল ভুনা ১৭০০ টাকা কেজি এবং বিফ কালো ভুনা ১৮০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের পরোটা যেমন বড় আলু পরোটা ৬০ টাকা, টানা পরোটা ৫০ টাকা, কাশ্মীরি পরোটা ৮০ টাকা, ঘি পরোটা ৯০ টাকা এবং জেলি নান ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কাশ্মীরি চাপ, মাটন বটি, চিকেন বটি কাবাব, চিকেন চাপ, চিকেন তন্দুরি, কাঠি কাবাব, চিকেন সাসলিকসহ নানা আইটেমেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

শতাধিক আইটেম নিয়ে হীরাঝিলের আয়োজন
হীরাঝিল হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার তারা শতাধিক ইফতার আইটেমের আয়োজন করেছে। হীরাঝিলের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তা সুমন বলেন, প্রতিবছরই আমরা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন আইটেম যুক্ত করার চেষ্টা করি। ভালো মানের খাবার ও সুন্দর পরিবেশে যুক্তিসংগত দামে ইফতার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এজন্য পুরো রমজানজুড়েই ক্রেতাদের ভিড় থাকে।

তিনি আরও বলেন, ভালো মানের খাবার পেয়ে যেমন ক্রেতারা সন্তুষ্ট হন, তেমনি বিক্রিও ভালো হওয়ায় বিক্রেতারাও খুশি।

অফিসপাড়া হওয়ায় বাড়তি জমজমাট
মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকা রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অফিসকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বিকেল থেকেই ইফতার কেনার জন্য ভিড় বাড়তে থাকে। অফিস শেষ করে অনেকেই পরিবারের জন্য ইফতার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ সহকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করার জন্য খাবার সংগ্রহ করছেন।

jagonews24

ব্যাংক কর্মকর্তা আনিস আহমেদ বলেন, মতিঝিলে রমজান ঘিরে রাজধানীর এই অফিসপাড়াগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্বল্পমূল্যের ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁ-সব জায়গাতেই রয়েছে সাধ্যের মধ্যে বাহারি ইফতারের আয়োজন। এটি সব শ্রেণির মানুষের কাছে এনে দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দ।

ইএআর/এমআইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।