স্কুল ছেড়ে রাজপথে আর কত দিন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৬ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৯

প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে টানা ২৬ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বঞ্চিত শিক্ষকরা। অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবারও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। আন্দোলনে দেড় শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হলেও অধিকাংশ সুস্থ হয়ে আবারও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন বলে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া সারাদেশে প্রায় ৪ হাজার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা গত ২৬ দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম পর্যায়ে এসব শিক্ষকরা টানা ১৭ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও গত ৯ দিন ধরে তারা আমরণ অনশন করছেন। জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। তার মধ্যে ১ হাজার ৩০০টির মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য যাচাই-বাছাই করা হলেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বঞ্চিত প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ শিক্ষক এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। একাধিক নারী শিক্ষকের সঙ্গে ছোট সন্তানরাও রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে ফুটপাতে ত্রিপল বিছিয়ে মাথায় ফিতা আর ব্যানার ঝুলিয়ে জাতীয়করণের দাবিতে তারা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। তাদের এ আন্দোলনে দেড় শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের অনেকে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, অধিকাংশরাই সুস্থ হয়ে আবারও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণার পর সারাদেশে ২৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও প্রায় ৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বঞ্চিত করা হয়। সব শর্ত পূরণ হলেও আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়নি। গত ২৬ দিন ধরে আমরা এ দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন করে আসলেও এখনও সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছি, নিজের ও পরিবারের আহার যোগাতে পারি না। কোনোভাবে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে রাজপথে বসে অনহারে রোদ-বৃষ্টি, ধুলাবালি ও মশার কামড়ে দিনরাত পার করে যাচ্ছি। তারপরও আমাদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। উল্টো আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা বাড়ি ফিরে যাব না।

Primary_Teacher--2

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ২৬ দিন ধরে কীভাবে নারী-পুরষ শিক্ষকরা রাজপথে বসে দিনরাত পার করছে তা নিজ চোখে না দেখলে বোঝানো যাবে না। অনাহারে রাজপথে বসে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে সেই কাপড়ে বসে থাকতে হচ্ছে, নাওয়া-খাওয়া, ঘুম সব কিছু হারাম হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার আমাদের তিন শিক্ষক প্রতিনিধি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি মুখ্য সচিবকে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া আর কোনো মহলে আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি।’

সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘জাতীয়করণ থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হলে এর আগেও আমরা ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন নামি। টানা ১৮ দিন আন্দোলনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি আদায়ে আশ্বস্ত করলে আমরা বাড়ি ফিরে যাই। এরপর ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাদ পড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর হালনাগাদ তথ্য চাইলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দায়সারা তথ্য দেন। কর্মকর্তাদের অবহেলায় আমাদের রাজপথে আমরণ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা ঘর-সংসার ত্যাগ করে রাজপথে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। জাতীয়করণ ছাড়া আমরা বাড়ি ফিরব না। প্রধানমন্ত্রী আমাদের অবস্থা বিবেচনা করে দাবি পূরণ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’

এনডিএন/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :