সমুদ্র পৃথিবীর শরীরের রক্তপ্রবাহ, একে বাঁচাতে হবে : পরিবেশমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৯

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, সমুদ্র হচ্ছে পৃথিবীর শরীরের রক্তপ্রবাহ। রক্তপ্রবাহ দূষিত হলে যেমন মানুষ বাঁচে না, তেমনি সমুদ্র দূষিত হলেও পৃথিবী বাঁচবে না। তাই সমুদ্রকে বাঁচাতে হবে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ও সাউথ এশিয়া কো-অপারেটিভ এনভাইরনমেন্টাল প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত লন্ডন প্রটোকলের ওপর অনুষ্ঠিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার ও পরিবেশ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশের একটি বড় অংশ এবং পানির প্রধান উৎস হচ্ছে সমুদ্র। এই প্রধান উৎসকে আমরা নষ্ট করে দিচ্ছি নানা রকম দূষণের মাধ্যমে। মানব সমাজের আচরণ দেখে মনে হয় বর্জ্য অপসারণের সবচেয়ে উপযোগী স্থান হচ্ছে সমুদ্র, যা মোটেই উচিত হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বছরে ২৫০ মিলিয়ন টন বর্জ্য নিক্ষিপ্ত হচ্ছে সমুদ্রে। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বারা সমুদ্র দূষণ। তারপর রয়েছে তেলজাতীয় পদার্থ ও জাহাজ থেকে নিক্ষিপ্ত অন্যান্য বর্জ্য। আমাদের এই আচরণ থেকে সরে আসতে হবে যদি আমরা সমুদ্রকে বাঁচাতে চাই। বিশ্বব্যাপী আজ সচেতনতা তৈরির সময় হয়েছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ উপমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সমুদ্র নয়, নদীমাতৃক এই দেশকে, দেশের পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদের নদীগুলোকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। যারা নদীদূষণ করছে আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য। পাশাপাশি জনগণকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’

উল্লেখ্য, বর্জ্য ও অন্যান্য পদার্থের ডাম্পিং দ্বারা সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ৮৭টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত লন্ডন কনভেনশন। সামুদ্রিক দূষণের উৎসহসমূহ চিহ্নিত করা, দূষণ প্রতিরোধে বর্জ্য পদার্থ এবং অন্যান্য বিষয়গুলোর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল ওই কনভেনশনের লক্ষ্য। তারই ধারাবাহিকতায় কনভেনশনের সিদ্ধান্তসমূহ আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার জন্য ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত হয় ‘লন্ডন প্রটোকল’। বাংলাদেশসহ ৫১টি রাষ্ট্র এতে স্বাক্ষর করে। ২০০৬ সালের ২৪ মার্চ থেকে ৫১টি রাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত লন্ডন প্রটোকল কার্যকর হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাউথ এশিয়া কো-অপারেটিভ এনভাইরনমেন্টাল প্রোগ্রামের ডিরেক্টর জেনারেল ড. আবাস বাসির ও ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধি এন্ড্রো ব্রিকেনও।

এমইউ/এসআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :