রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাজি করাতে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে মিয়ানমার

জেসমিন পাপড়ি
জেসমিন পাপড়ি জেসমিন পাপড়ি , কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৯ এএম, ১৩ জুলাই ২০১৯

প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের রাজি করাতে আবারও বাংলাদেশে আসছে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল। দেশটির পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে আগামী ২৬ জুলাই আসতে চায় তারা।

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে রাখাইনে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা রোহিঙ্গাদের সরাসরি জানাবে এই প্রতিনিধি দল।

তাদের আসার ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সফরকালে কক্সবাজারের আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘মিয়ানমারের পক্ষ থেকে আসছে ২৬ বা ২৭ জুলাই এ সফরের সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখনও চড়ান্ত হয়নি। আগামী দু-একদিনের মধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে তারিখ নির্ধারিত হবে।’

rohingha

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিবের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি, দুদিন কক্সবাজারে অবস্থান করে, রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়।’

এর আগে রোহিঙ্গাদের রাজি করাতে গত বছর কক্সবাজারে এসেছিলেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াত। তবে তাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে বিভিন্ন ধরনের বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রত্যাবাসনে নানা শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তচ্যুত মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে চায় মিয়ানমার সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সংখ্যা এখনও ঠিক না হলেও প্রতিনিধি দলটি ১০ থেকে ১৫ সদস্যের হতে পারে।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের সেনা অভিযান থেকে প্রাণে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফে ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে নতুন পুরোনো মিলে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

তাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে নেয়নি মিয়ানমার।

rohingha

রোহিঙ্গাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় সেখানে গেলে আবার গণহত্যার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শরণার্থী পুনর্বাসন ও ত্রাণ কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সর্বশেষ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় প্রত্যাবাসনে রাজি করাতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য মিয়ানমারের কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল।’

রাখাইনে পরিবেশ উন্নয়নের জন্য তাদের নেয়া ব্যবস্থা রোহিঙ্গাদের জানাতে বলি। রোহিঙ্গারা আমাদের কথায় আশ্বস্ত হতে পারছে না। মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষই প্রকৃত তথ্য জানাতে পারবে। মিয়ানমার আমাদের প্রস্তাব মেনে নিয়ে বাংলাদেশে এই প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে।’

এদিকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দু’দেশের যৌথ বিবৃতি প্রকাশ বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিদেশীয় সভার আয়োজন করবে চীন। বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার না করে বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানকারী মানুষদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার জন্য সেদেশে প্রযোজনীয় নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে চীন।

জেপি/জেডএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :