শিশু বাপ্পী হত্যার রায় কার্যকরের দাবি
২০০২ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রুবাইয়েদ আহমেদ বাপ্পী হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পরও তা কার্যকর হয়নি। অবিলম্বে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, মাত্র ৮ বছরের শিশু বাপ্পীকে অপহরণের পর খুন করে অপরাধীরা। মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে সেই টাকা না পেয়ে এই জঘন্য অপরাধ করে তারা। অপহরণের ১০ দিন পর ১৫ আগস্ট শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় বাপ্পীর মরদেহ।
তারা আরও বলেন, ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালত-৩ পাঁচ আসামির (শিপন, সঞ্জিত, রিপন, শংকর, বাদল) ফাঁসির আদেশ দেন। কিন্তু উচ্চ আদালতে আপিলের কার্যক্রমে হয় দীর্ঘসূত্রিতা। একমাত্র ছেলে হত্যার বিচারের অপেক্ষায় থেকে বাপ্পীর বাবা ২০০৬ সালে ও মা ২০০৯ সালে মারা যান। নিম্ন আদালতের রায়ের প্রায় চার বছর পর ২০০৬ সালে হাইকোর্ট দুই আসামির (শিপন, সঞ্জিত) ফাঁসি বহাল রাখেন ও তিনজনের (রিপন, শংকর, বাদল) যাবজ্জীবনের রায় দেন। এরপর রিপন ও শিপনের আবেদনে আপিল বিভাগে আটকে যায় মামলাটি।
‘২০০৯ সালে আপিল বিভাগের রায় পাওয়া যায়। রায়ে মূল হত্যাকারী শিপনের ফাঁসি এবং রিপনের যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয়। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েও ক্ষমা পায়নি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় অজ্ঞাত কারণে প্রায় ১০ বছরেও কার্যকর হয়নি দুই আসামির ফাঁসি।‘
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অবিলম্বে শিশু বাপ্পীর হত্যাকারীদের ফাঁসির আদেশ কার্যকরের ব্যবস্থা করুন। মানববন্ধনে শিশুটির বড় তিন বোন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
এএস/জেএইচ/এমকেএইচ