মিয়ানমারের দোষারোপের তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার পেছনে বাংলাদেশকে দায়ী করে মিয়ানমারের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দুই বছর পূর্তির দিনে বাংলাদেশ কড়া ভাষায় এ প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে প্রয়োজনীয় দায়বদ্ধতা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করতে দেশটির প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দেশটির নেতাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের দেশে গ্রহণ করার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দীর্ঘস্থায়ী সংকটের জন্য পুরোপুরি দায়বদ্ধ এমন একটি দল প্রত্যাবাসন প্রয়াসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করা ভিত্তিহীন, অশুভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া, প্রত্যবাসন তদারকি করা এবং পুনরায় প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও কেউ ফেরত যায়নি। যদিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের দেশে ফেরত যেতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের নীতিমালার প্রতিশ্রুতি অনুসারে, বাংলাদেশ সরকার ইউএনএইচসিআর’র কাছে এখনো পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গার তালিকাটি জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছে। বাংলাদেশ সরকার উত্তর রাখাইনে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিল।

এই ৩ হাজার ৪৫০ রোহিঙ্গার তালিকার মধ্যে, ইউএনএইচসিআর ৩৩৯টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের মিয়ানমার সরকার প্রদত্ত সমস্ত তথ্য এবং ফ্যাক্ট-শিটগুলো সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে বিতরণ করা হয়। সুরক্ষা ব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল যাতে তারা নির্বিধায় তাদের কথা বলতে পারে।

দুর্ভাগ্যক্রমে, সাক্ষাৎকার নেয়া কোনো পরিবারই বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিরে আসতে রাজি হয়নি। কারণ, তারা রাখাইনের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবেশ তাদের প্রত্যাবর্তনের পক্ষে উপযুক্ত নয় বলে বিবেচনা করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাক্ষাৎকার নেয়া প্রায় সমস্ত পরিবার রাখাইনের সুরক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নাগরিকত্ব, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং ভূমি-ব্যবহারের অধিকারসহ ন্যায়বিচার এবং অধিকার সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর সমাধানে অগ্রাধিকারের অভাবকে সিংহভাগ পরিবার না ফিরে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ বলছে, প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত দ্বিপক্ষীয় কথা অনুসারে, বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করার দায়িত্ব পুরোপুরি মিয়ানমারের ওপর বর্তায়। শুধু সঠিক তথ্যের প্রচারসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং রোহিঙ্গাদের আস্থা-ঘাটতি হ্রাস করা মিয়ানমারের দায়িত্ব। তাই সংশ্লিষ্ট লোকদের অনিচ্ছার কারণে প্রত্যাবাসন না শুরু করাকে মিয়ানমার সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতিসহ পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে চীন ও মিয়ানমার দূতাবাসের কূটনীতিকরা কক্সবাজারে উপস্থিত ছিলেন।

২৭-২৮ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্থায়ী সচিবের নেতৃত্বে মিয়ানমার থেকে উচ্চস্তরের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার বাসিন্দাদের প্রতিনিধিরা সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য উত্তর রাখাইনে আন্তর্জাতিক বেসামরিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির আহ্বান জানানো হয়েছিল।

মিয়ানমার প্রতিনিধিও মৌলিক অধিকার এবং নাগরিকত্ব প্রদানসহ মূল বিষয়গুলোতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিরতিতে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়।

জেপি/এমআরএম/পিআর