যে কারণে বরখাস্ত হলেন ওয়ারীর ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০১৯
ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান

কোনো কারণ উল্লেখ না করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি।

তবে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখল, দখলে সহযোগিতা, দায়িত্বে অবহেলা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদ একেএম সামসুল হক খানের পরিবারের নামে বরাদ্দ দেয়া পুরান ঢাকার নবাবপুরের একটি সরকারি জমি ২০১৮ সালে জবরদখল ও ভবন ভেঙে ফেলে সন্ত্রাসীরা। এ বিষয়ে বংশাল থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে পরিবারটি। জমি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করেন তারা। তাদের সম্পত্তির দাম ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, শহীদ সামসুল হক খানকে ২০১০ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয় সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সামসুল হক খানের মা মাসুদা খানকে ঢাকার নবাবপুর রোডের ২২১ নম্বর হোল্ডিংয়ে চার কাঠার প্লটটি ইজারা দেন। পরে তার উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে আজহারুল হক খানকে ওই জমি হস্তান্তর করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই জমিতে মাসুদা কর্পোরেশন ও এসএইচকে কর্পোরেশন নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।

স্থানীয় শেখ জাবেদ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন ওই জমি আর বাড়ি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এ ব্যাপারে থানায় একাধিকবার জিডিও করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাবেদ উদ্দিনের লোকজন জমি দখল করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার পরদিনই তারা এ বিষয়ে বংশাল থানায় মামলা করেন। কিন্তু থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পুলিশের আইজি ও লালবাগ জোনের তৎকালীন ডিসি ইব্রাহিম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এতে কোনো কাজ হয়নি।

এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরে ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পরিবারটি। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি করে পুলিশ সদর দফতর।

তদন্ত কমিটি ডিসি ইব্রাহিম খানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, তদন্তে অসহযোগিতা ও দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পায়। তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের ২৩ মে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট -১) আমিনুল ইসলাম তাকে একটি চিঠি দিয়ে এসব অপরাধের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চান।

চিঠিতে বলা হয়, ভুক্তভোগীর এসব অভিযোগ শুনেও ডিসি ইব্রাহিম বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ব্যবস্থা নিতে কোনো নির্দেশনা দেননি বা নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশ সদর দফতরের ডিসি যে তদারকি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, সেটা তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে জমা দিয়ে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।

ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য ডিসি ইব্রাহিমকে ১০ কার্যদিবস সময় দেয়া হয়। তার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে সদর দফতর।

অবশেষে সোমবার (২৫ আগস্ট) তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এআর/এনডিএস/জেআইএম