প্রজায় পরিণত হয়েছি, কথা বললেই রাজার সঙ্গে শত্রুতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মানবাধিকার কর্মী ও টিআইবির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায়। আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ জনমানুষের দল ও মুক্তিযুদ্ধে তারা নেতৃত্ব দিয়েছে। অন্য যে কোনো দলের তুলনায় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও বেশি। কিন্তু দলটি নাগরিকদের ‘নাগরিকবোধ’টা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ। বরং ক্রমশ তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। আমরা এখন প্রজায় পরিণত হয়েছি।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘যাত্রী অধিকার দিবস ঘোষণা ও আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েত সাকি, পরিবহন নেতা হোসেন আহমদ মজুমদার, যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ফাহমিদুল হক লিটন।

সুলতানা কামাল বলেন, মঈন উদ্দীন খান বাদল ভাই যেকোনো সমস্যায় বলেন, ‘আপনারা বলেন। আমরা কেন বলব? আমরা তো আপনাদের পাঠিয়েছি সংসদে। কথা তো আপনারাই বলবেন। আমরাই যদি বলতে থাকি তাহলে আপনারা কী বলবেন? তাহলে সংসদ আছে কিসের জন্য?

তিনি আরও বলেন, ‘বাদল ভাইয়ের কথা ধরেই বলছি, প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলার পারমিশন দিয়েছেন আপনারা শুধু সেটাই বলবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তো আমাদের কিছুরই পারমিশন দেননি। তিনি তো তুরি মেরে উড়িয়ে দেন, তোমরা কারা? আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। যা করব আমরাই করব। তোমরা কে? রাজার সঙ্গে শত্রুতা। আমরা কথা বললে রাজার সঙ্গে শত্রুতা হয়। যেটার ফল ভোগ করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। এ সংস্কৃতিগুলোর পরিবর্তন কারা আনবেন? আপনারাই (সংসদ সদস্যরা) তো আনবেন। আপনারাই আমাদের সাহস দেবেন, সংসদে গিয়ে বলবেন সমস্যার কথা পরিবর্তনের কথা।

যাত্রী অধিকার দিবস পালনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি সরকার জোর গলায় বলে তারা নাকি জনগণকে সেবার দেয়ার জন্যই কাজ করেন। ভালো করার জন্য সরকারে যেতে যান ও ওখানে বসে আছেন। একটু প্রমাণ করে দেখান। রাস্তায় আমরা যারা চলাচল করি তাদের নিরাপত্তাবিধান করতে আপনারা ব্যর্থ হননি।

আমাদের মধ্যে সব সময় একে অপরকে কিংবা কিছু কিছু মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করানো একটা প্রবণতা থাকে। ও ওর শত্রু। এতে করে আসলে সার্বিক নাগরিক সমস্যাটা হিসেবে দেখার চেষ্টা করা হয় না। সেখানে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি না, যে এটার জন্য দায়-দায়িত্ব কার।

সুলতানা কামাল বলেন, যে বাসগুলো রাস্তায় নামানো হয়, সেগুলো কারা নামায়, কার পারমিশনে রাস্তায় চলে। এখন বাসে উঠে আমি সিট পাবো কি না, বসতে পারবো কি না, জান নিয়ে গন্তব্যে যেতে পারবো কি না, নারীরা মান-সম্মান নিয়ে, ধর্ষিত না হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবো কি না সে সমস্যাও এসে দাঁড়িয়েছে। এর দায়-দায়িত্ব কে নেবে? কেউই দায় নিচ্ছি না। বরং অন্যের ওপর দায়টা ছেড়ে দিচ্ছি। সবাই একে ওকে দোষারোপ করছি। যার যার জায়গা থেকে আমরা কেউ দায়িত্ব না নিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। দেশের যে কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছি। আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে আমাদের অর্থনীতি হংকং, সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু সব সময় যখন আমরা কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলি, তখন বলা হয় ‘ম্যাডাম সবসময় হংকং বা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনা করলে তো হবে না।’ এখন কিন্তু তারা নিজেরাই হংকং, সিঙ্গাপুর থেকে আমাদের অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবার কথা বলছেন। আমরা এখন থেকে হংকং, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সব বিষয়ে তুলনা করে কথা বলব।

জেইউ/জেএইচ/এমকেএইচ