খেলাঘরের জাতীয় সম্মেলন ২০-২১ সেপ্টেম্বর

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:১৬ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কেন্দ্রীয় খেলাঘরের জাতীয় সম্মেলন আগামী ২০-২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। দেশব্যাপী শিশু হত্যা, নির্যাতনসহ শিশুদের জন্য সামাজিক প্রতিকূল পরিবেশের কারণে জাতীয় পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের বৃহত্তম এ সংগঠনটি এবার আড়ম্বরপূর্ণ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে খেলাঘর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ১৯৫২ সালের ২ মে যাত্রা শুরু হওয়া এই সংগঠনের বিস্তৃতি আজ দেশজুড়ে। শিশু অধিকার রক্ষা, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, দেশপ্রেম তথা তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে জন্মলগ্ন থেকেই কাজ করে যাচ্ছে খেলাঘর। সংগঠনের গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পর পর সম্মেলন আয়োজন করা। এর ধারাবাহিকতায় এবারও জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে জেলা, আঞ্চলিক, মহানগরসহ শাখা আসরের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি শিশুদের জন্য সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে যাচ্ছে না, যা ব্যথিত করে। শিশু হত্যা, ধর্ষণ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। বাল্য বিবাহ কোনো অবস্থাতেই রোধ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের যৌন হয়রানির ঘটনা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এই প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত হয়েছে আড়ম্বরপূর্ণ জাতীয় সম্মেলনের।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে খেলাঘরের সভাপতি মন্ডলীর চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাহাবুল ইসলাম বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা, আব্দুল মতিন ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শিক্ষাবিদ নিরঞ্জন অধিকারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম দিনে শিশু একাডেমিতে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

দ্বিতীয় দিনে বিকেল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কালের কণ্ঠের সম্পাদক এবং লেখক ইমদাদুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী প্রমুখ। সন্ধ্যায় শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

সংগঠকরা জানান, সম্মেলনে বাল্য বিবাহ রোধ, হত্যা নির্যাতন রোধে করণীয়, শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ সর্বোপরি শিশুদের সুরক্ষায় বছরব্যাপী খেলাঘরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এবারের জাতীয় সম্মেলনের অঙ্গীকার হচ্ছে ‘এই দেশটাকে ভালোবেসে এসো, শান্তি সুখের দ্বার খুলি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলি’।

এমইউ/এমএসএইচ/পিআর