টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ২৫ হাজার চারা রোপণ
একদিনের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ২৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শিক্ষার্থীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যেয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও অংশ নেয় উপজেলার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বনপাড়া সেন্ট যোসেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে চারাবিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর উপজেলার সবকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজেদের বাড়িতে রোপণ করে।
এ নিয়ে গত তিন বছরে বড়াইগ্রামের শিক্ষার্থীরা দেড় লাখ গাছের চারা রোপণ করল। ২০১৭ সালে ৮০ হাজার এবং গত বছর ৪৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছে এই উপজেলার শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ বলেন, দুই বছর আগে এখানকার শিক্ষার্থীরা অক্সিজেন উৎপাদনের এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। যা এবারও অব্যাহত রেখেছে তারা। টিফিনে না খেয়ে এখানকার শিক্ষার্থীরা গাছের চারা কিনে বিরল দৃষ্টান্ত রেখে চলেছে। আজ তাদের ছোট্টমনে দেশপ্রেমের বীজ বপন হলো।
এ সময় সেন্ট যোসেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার শংকর ডমিনিক বলেন, শিক্ষার্থীদের মনে আজ যে উচ্ছ্বাস দেখলাম তাতে আমি অভিভূত। আগামী বছরও এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
২০১৫ সাল থেকে রাজশাহীর বাঘার উদ্যমী তরুণ জুবায়ের আল মাহমুদ ‘একদিনের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে গাছ রোপণ’ আন্দোলন শুরু করেন। গত পাঁচ বছরে এই আন্দোলনে সারাদেশের ৭৫০টি স্কুলের লাখো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের বড়াইগ্রাম, সিলেটের বিয়ানীবাজার এবং খুলনার দীঘলিয়া উপজেলার শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নেয়। ২০১৫ থেকে ২০১৯ এই পাঁচ বছরে প্রায় পৌনে চার লাখ গাছ রোপণ করা হলো।

বৃক্ষরোপণ উৎসবের আমেজ ছিল উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। উপজেলার মৌখাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বকুল জানান, তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে পাঁচ শতাধিক গাছের চারা রোপণ করেছে। গত বছরও তারা সমান সংখ্যক চারা রোপণ করে।
এই সবুজায়ন আন্দোলন সম্পর্কে জুবায়ের আল মাহমুদ বলেন, ‘প্রতি বছর স্কুলগুলোয় বিছিন্নভাবে বৃক্ষরোপণ উৎসব হতো। কিন্তু এ বছর থেকে আমরা চেষ্টা করছি গুচ্ছ পদ্ধতিতে বৃক্ষরোপণের। এতে প্রতিটি স্কুলে এক ধরনের উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বড়াইগ্রামের শিক্ষার্থীদের মতো বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে যদি বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনে বৃক্ষরোপণ করা যায়, তাহলে খুব সহজে বাংলাদেশ সবুজে পরিণত হবে। আর এই আন্দোলন যদি জাতিসংঘের উদ্যোগে সারা পৃথিবীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছড়িয়ে দেয়া যায়, তাহলে খুব সহজে সারা পৃথিবী বিশাল এক অরণ্যে পরিণত হবে।’

জাতীয়ভাবে বৃক্ষরোপণের জন্য ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ দিবস’ ঘোষণারও দাবি জানান তিনি।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলার শিক্ষার্থীরা নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এক লাখ পাঁচ হাজার গাছের চারা রোপণ করে।
এমইউ/বিএ