ইসমত আরা সাদেক অত্যন্ত সৎ ছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৭ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি অত্যন্ত সৎ, একাগ্রচিত্ত, নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমিক ছিলেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সাবেক এই মন্ত্রীর মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনার পর শোক প্রস্তাবটি গ্রহীত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ইসমাত আরা সাদেক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু কখনও রাজনীতিতে খুব সক্রিয় ছিলেন না। তার স্বামী এ এস এইচ কে সাদেক ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সেই সময় যখন আমরা সরকার গঠন করতে পারলাম না, তখনই তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই থেকে দুজন একসঙ্গে আসতেন, কথা হতো।

তিনি আরও বলেন, সাদেকের মৃত্যুর পর মিসেস সাদেককে যখন নির্বাচন করার জন্য বললাম, উনি প্রথমে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, হ্যাঁ, আপনি পারবেন। উনি ইলেকশন করে জিতে আসার পর আমি যখন উনাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলাম তিনি বললেন, আমি তো কখনও এভাবে অফিস করিনি। আমি হাউস ওয়াইফ (গৃহিণী) ছিলাম। আমি কীভাবে করব? তখন আমি বললাম, আপনি শিক্ষিত মহিলা, আপনি জানেন আপনার স্বামী একজন মন্ত্রী ছিলেন। আপনার তো জানাই আছে সবকিছু। আমি আছি আপনার কোনো চিন্তা নেই। যখন যা দরকার হবে আপনি বলবেন। তাছাড়া আমার বিশ্বাস আছে আপনি পারবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি কাজ উনি অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে করতেন। পরে আবার যখন আমরা সরকার গঠন করলাম ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে উনাকে আমি ২০১৫ সালে জনপ্রশাসনে দায়িত্ব দিলাম। তিনি বলতেন, এটা আমি কীভাবে করব? তিনি অত্যন্ত গোছালোভাবে কাজ করতেন। আমাদের অনেকগুলো নীতিমালা, বিধিমালা, প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে উন্নত করা, জনপ্রশাসনকে আরও গতিশীল করা, কোথায় কত জায়গা খালি আছে, সেখানে কীভাবে আমরা আরও চাকরির ব্যবস্থা করতে পারি, এসব কাজ অত্যন্ত সুচারুভাবে উনি করতেন। সবচেয়ে বড় কথা ছিল, তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। সবচেয়ে বড় গুণ হলো উনার সততা, একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে আমরা যখন একনেক মিটিং করি, মিটিং চলা অবস্থায় আমার কাছে স্লিপ আসলো যে ইসমত আরা সাদেক আর নেই। তিনি মারা গেছেন। আমাদের দুর্ভাগ্য এই সংসদে পরপর আমাদের চারজন সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করলেন। ডা. ইউনুস চলে গেলেন, ডা. মোজাম্মেল সাহেব মারা গেলেন, মান্নান এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলে গেলেন, তিন দিন পরে শুনলাম তিনি নেই। তার জানাজা পড়তে হলো। আবার আজকে সকালে ইসমত আরা সাদেক মারা গেলেন। এটা খুবই কষ্টকর যে এবার নির্বাচনের পর আমরা অনেক সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

এইচএস/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]