ফুটেজে শনাক্ত হয়নি হোসনি দালানে হামলাকারীরা


প্রকাশিত: ১০:৪২ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৫

রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসনি দালানে বোমা হামলাকারীদের ধরতে সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করেও কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এমনকি একজনের ছবি পরিষ্কার আসলেও তার নাম পরিচয় এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। এ ঘটনায় তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলেনি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।


ঘটনার পর চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। এছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মারুফ হাসানকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোসনি দালানের কবরস্থানের পাশে ওই রাতে আলো কম ছিল। পশ্চিম-উত্তর কর্নারের দারুল কোরআন শেফা অ্যান্ড ডেন্টাল ক্লিনিক নামের একটি ভবনের উপর থেকে তিনটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বাকি ২টি কোন দিক থেকে নিক্ষিপ্ত হয়েছে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হোসনি দালানের কবরস্থানের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে দেয়াল বরাবর পানির পাইপ লাইন রয়েছে। সেটা ভাঙা দেখা গেছে। হোসনি দালান কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন ওই রাতে ঘটনার আগেও পাইপলাইন ঠিক ছিল।


ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা ঘটনার পর ওই দিক দিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় পাইপলাইনে পা দিয়ে পাড় হওয়ার কারণে পাইপলাইন ভেঙে যেতে পারে। এছাড়া ওই দিক দিয়ে যাওয়া মানুষের পায়ের ছাপও সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, হোসনি দালান ও এর আশপাশের এলাকার ৩২টি সিটি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বোমা হামলার স্থানগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও ওই রাতে ওই এলাকা ছিল অন্ধকার। সে কারণে ২টি বোমা হামলার স্থানের ছবি স্পষ্ট নয়।


অপর তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তা জানান, সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তিনজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ফুটেজে একজনের ছবি স্পষ্ট দেখা গেলেও তা পেছন থেকে। মুখ দেখা না যাওয়ায় তার নাম পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তবে ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।


ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড প্রসিকিউশন) শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান বলেন, সিসি টিভি ফুটেজসহ তদন্তের জন্য সব কিছুই সংগ্রহ করা হয়েছে। ২ থেকে ৫ জন এই অপারেশনে যোগ দিয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন ৩ জনের নাম পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।


এটা কোনো জঙ্গি হামলা নয়। সরকারকে অস্বস্থিতে ফেলতেই হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন শেখ মোহম্মদ মারুফ হাসান। হামলার ঘটনা তদন্তে বিশেষ কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। তিনি বলেন, ঘটনায় আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তারা জড়িত কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার মাধ্যমে ফায়দা হাসিলকারীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।


উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে একটি তাজিয়া মিছিল বের হওয়ার সময় পরপর কয়েকটি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সানজুম নামে এক কিশোর নিহত হয়। আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। এদের মধ্যে ৬৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ১৭ জনকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের রাজধানীর অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


জেইউ/একে/বিএ