অর্থমন্ত্রী হলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে তিনি মন্ত্রীর শপথ নেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২৫ মার্চ ২০০৪ পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্য।
১৯৪৯ সালে চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীতে জন্মগ্রহণ করেন আমীর খসরু। তার বাবা মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ও মাতার মেহেরুন্নেসা বেগম চৌধুরী। মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের আইনপরিষদ নির্বাচনে ডবলমুরিং-সীতাকুণ্ড আসন থেকে জয়লাভ করেন এবং যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমে গণযোগাযোগ মন্ত্রী ও পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব লাভ করেন।
আমীর খসরু ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষাজীবন শেষ করে তার পিতার ব্যবসায় যুক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন এবং চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আমীর খসরু চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া খসরু চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল, সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন। একই আসন থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন।
২০০১ সালের নির্বাচনে তার নিজ দল বিএনপি সরকার গঠন করলে একই বছরের ১০ অক্টোবর তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন এবং ২৫ মার্চ ২০০৪ পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন যারা
স্বাধীনতার পর থেকে দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীরা। বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব নীতি নির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি ১৯৭২ সালের ১৩ এপ্রিল থেকে ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমানের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া এম সাইফুল রহমান, ড. আজিজুর রহমান, ড. এম এন হুদা, এম সায়েদুজ্জামান, মেজর জেনারেল এম এ মুনিম, ড. ওয়াহিদুল হক, আবুল মাল আবদুল মুহিত, শাহ্ এএমএস কিবরিয়া, ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং আবুল হাসান মাহমুদ আলী অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
সর্বশেষ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমদ। তিনি অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দায়িত্ব নেন।
এমএএস/এমএএইচ/